Beta
Logo

সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

৪.৬% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্ব ব্যাংকের

৪.৬% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্ব ব্যাংকের
সকাল সন্ধ্যা প্রতিবেদন
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:১৪:০০

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক।

 

সংস্থাটি বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আশার কথা শুনিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

 

বিশ্ব ব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

 

গত বছরের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের অক্টোবর সংস্করণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংক। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছিল ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনে অন্তর্বর্তী সরকার।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাব ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

 

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ২২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়।

 

বিশ্ব ব্যাংক চলতি অর্থ বছরে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্জিত প্রবৃদ্ধির যে দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। তবে অক্টোবরের পূর্বাভাসের চেয়ে দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

 

বুধবার প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে। এর পাশাপাশি নতুন সরকার এসে কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। এতে শিল্প খাতকে শক্তিশালী করবে।

 

“এসব কারণে সরকারি খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগও বাড়বে।”

 

বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশে এখন লক্ষ্যের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি আছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করা হয়েছে। বাংলাদেশে ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা–বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

 

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে। দেশটিতে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এরপরের স্থানে আছে ভারত। চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ছয় শতাংশ।

 

এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ৩ শতাংশ, নেপালে ২ দশমিক ১ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

 

প্রতিবেদনে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়নি বিশ্বব্যাংক।

 

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব দিয়েছে। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

আরও