বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিহত জিহাদ হোসেন ও ওয়াসিম শেখ হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে তিন দিন করে ছয় দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
বুধবার সকালে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এই অনুমতি দেয়।
একই আদালত জিহাদ হত্যা মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনেরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এছাড়াও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিসহ নয় জনকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও মঞ্জুর করেন বিচারক।
আনিসুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিহাদ হোসেন হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের জন্য রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেছিল পুলিশ। একই থানায় ওয়াসিম শেখ হত্যা মামলায় আনিসুল হকের আরও তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।
শুনানিতে তাদের আদালতে হাজিরও করা হয়।
এছাড়াও, যাত্রাবাড়ী থানার আলাদা মামমলায় সাবেক শিক্ষা ও সমাজকল্যানমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক সমাজকল্যান মন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহম্মেদ, শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ভোলা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল ও ভোলা-৪ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ঢাকা-৭ আসনের সাবেক এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম, গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ।
জিহাদ হোসেন হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকার শনির আখড়া এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন জিহাদ হোসেন। এসময় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল আমিন মোল্লা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৫ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওয়াসিম শেখ হত্যার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মো. ওয়াসিম শেখ। ওইদিন সন্ধ্যা ৭ টায় আসামিদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেহানা আক্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৩ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।