যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-র নিজ বাড়ি থেকে অস্কার বিজয়ী মার্কিন অভিনেতা জিন হ্যাকম্যান এবং তার স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যারা খুনের শিকার নন বলেই পুলিশ মনে করছে।
ছয় দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে হ্যাকম্যান দুটি অস্কার, দুটি বাফটা, চারটি গোল্ডেন গ্লোব এবং একটি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার পেয়েছেন।
নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে কাউন্টি শেরিফের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে জিন হ্যাকম্যান এবং তার স্ত্রী উভয়কেই বুধবার বিকেলে তাদের সানসেট ট্রেইলের বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
“কীভাবে তারা মারা গেলেন সেটি নিয়ে তদন্ত চলছে- তবে, এই মুহূর্তে আমরা মনে করি না যে কোনও অপরাধমূলক কাজ এর সঙ্গে জড়িত ছিল।”
জিন হ্যাকম্যান উইলিয়াম ফ্রিডকিনের ১৯৭১ সালের থ্রিলার ‘দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন’- এ জিমি ‘পোপাই’ ডয়েলের ভূমিকায় সেরা অভিনেতার জন্য অস্কার জিতেছিলেন এবং ১৯৯২ সালে ক্লিন্ট ইস্টউডের ওয়েস্টার্ন ফিল্ম ‘আনফরগিভেন’- এ লিটল বিল ড্যাগেটের ভূমিকায় সেরা পার্শ্ব অভিনেতার জন্য আরেকটি অস্কার জিতেছিলেন।
এছাড়া ১৯৬৭ সালের মুক্তি পাওয়া সিনেমায় ‘বনি অ্যান্ড ক্লাইড”-এ বাক ব্যারোর চরিত্র এবং ১৯৭০ সালের ‘আই নেভার স্যাং ফর মাই ফাদার’-এ অভিনয় এবং ‘মিসিসিপি বার্নিং’ সিনেমায় (১৯৮৮)-এ এজেন্ট চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের কারণেও তিনি আরও ৩বার অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
সান্তা ফে কাউন্টি শেরিফ আদান মেনডোজা বুধবার মধ্যরাতের ঠিক পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকে এই দম্পতির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। জানানো হয়, একই সঙ্গে তাদের কুকুরটিও মারা গেছে।
হ্যাকম্যানের বয়স ছিল ৯৫ এবং তার স্ত্রীর বয়স ৬৩।
শেরিফ মেনডোজা বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কিন্তু তিনি মৃত্যুর কারণ জানাননি বা দম্পতি কখন মারা যেতে পারেন তাও বলেননি।
“আমি শুধু বলতে পারি যে আমরা একটি প্রাথমিক মৃত্যু তদন্তের মধ্যে আছি, একটি অনুসন্ধান পরোয়ানার অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছি।”
হলিউড চলচ্চিত্রের প্রশংসিত অভিনেতা জিন হ্যাকম্যান ১৯৭০ এবং ১৯৮০ এর দশকে সুপারম্যান সিনেমাগুলোতে লেক্স লুথরের ভূমিকাসহ ১০০টিরও বেশি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
তিনি রানঅ্যাওয়ে জুরি, দ্য কনভারসেশন এবং ওয়েস অ্যান্ডারসনের দ্য রয়্যাল টেনেনবাউমসের মতো হিট সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।
২০০৪ সালে ওয়েলকাম টু মুসপোর্টে মনরো কোলের ভূমিকায় তার শেষ বড় পর্দার উপস্থিতি ছিল।
১৯৩০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণকারী হ্যাকম্যান ১৬ বছর বয়সে বয়স লুকিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং সাড়ে চার বছর ধরে সেখানে কর্মরত ছিলেন।
তার সামরিক পরিষেবার পর, নিউ ইয়র্কে সংক্ষিপ্তভাবে বসবাসের পর তিনি অভিনয়ের পথ বেছে নেন।
তার পছন্দের পেশা বেছে নিতে কৌশল হিসেবে হ্যাকম্যান ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনা প্লেহাউসে যোগ দেন, যেখানে তিনি তরুণ ডাস্টিন হফম্যানের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন।
তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমাকে একজন অভিনেতা হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, তারকা হওয়ার জন্য নয়। আমাকে চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শেখানো হয়েছিল, খ্যাতি এবং এজেন্ট এবং আইনজীবী এবং প্রেসের সাথে মোকাবিলা করার জন্য নয়।” “পর্দায় নিজেকে দেখে সত্যিই অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। নিজেকে নিয়ে ভাবতে গেলে মনে হয় আমি বেশ তরুণ, এবং তারপর আমি এই ঝুলে যাওয়া চিবুক এবং ক্লান্ত চোখ এবং পিছিয়ে যাওয়া চুলের রেখা এবং এইসব সহ এই বৃদ্ধ লোকটির (নিজের) দিকে তাকাই।”