যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান। তারা ক্রিকেটটা শিখেছিল পাকিস্তানের শরণার্থী শিবিরে। শুরুর সময় ১১ জন খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়াই কঠিন ছিল আফগানদের।
সেই আফগানিস্তান এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে হারিয়ে দেয় ইংল্যান্ড, পাকিস্তানকে। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তারা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্বপ্ন দেখছে সেমিফাইনাল খেলার।
যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা দেশের এমন রূপকথার উত্থানে কিছুটা কৃতিত্ব নিতে পারেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে আফগানদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
এ নিয়ে একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুলবুল বললেন, ‘‘২০২৩ সালে যে বিশ্বকাপ দেখেছিলেন , তার সমস্ত হাই পারফরম্যান্সের পরিকল্পনাটা আমি করেছিলাম। তাদের সাথে দুই দিনের একটা ওয়ার্কশপ করেছিলাম। তারা যখন খেলাটা শুরু করেছিলে তখন ১১ জন খেলোয়াড় ছিল না, এখন সংখ্যাটা ৯০ হাজার। এটা এমনি এমনি হয়নি।’’
ক্রিকেটারদের পরিচর্যার জায়গা হচ্ছে হাইপারফরম্যান্স সেন্টার। অথচ বাংলাদেশে সেই অর্থে কোনো হাইপারফরম্যান্স সেন্টার নেই। আর আফগানিস্তানে আছে তিনটা। এ নিয়ে বুলবুল বললেন, ‘‘ওদের হাইপারফরম্যান্স সেন্টার তিনটা- জালালাবাদ, কান্দাহার ও কাবুলে। তারা কাবুলে ১২ মাস অনুশীলন করে। পাকিস্তান থেকে তাদের একজন কোচ আছে, ফাস্ট বোলিং কোচও আছে।’’
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেই আফগান অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহীদিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘‘আপনাদের দেশে তো ক্রিকেট অবকাঠামো নেই। তাহলে এত উন্নতি করছেন কীভাবে?’’ জবাবে শহীদি বলেছেন, ‘‘কে বলেছে আমাদের অবকাঠামো নেই। আমাদের ৩২টা প্রদেশেই স্টেডিয়াম আছে। ঘরোয়া ক্রিকেট দেখতে আসে ৫০ হাজার দর্শক। খেলা হয় বছরজুড়ে।’’
AFGHANISTAN FANS CELEBRATING THEIR VICTORY IN CHAMPIONS TROPHY…!!!! 🇦🇫🙇 pic.twitter.com/1AZSvcJTYI
— Johns. (@CricCrazyJohns) February 27, 2025
ঠিকই বলছেন শহীদি। আফগানিস্তানের ইন্টার ক্লাব ক্রিকেট কম্পিটিশেনের জন্য নিবন্ধন করে ৫৩২টা ক্লাব, ক্রিকেটার নিবন্ধন করেন ৮০ হাজারের বেশি। ছেলেদের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট হয় ৬টা, অথচ বাংলাদেশে ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বলতে শুধু প্রিমিয়ার লিগ। ঘরোয়া ক্রিকেটের এমন অবকাঠামোর জন্যই বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে আফগানিস্তান। আর বাংলাদেশ পিছিয়ে যাচ্ছে ’৯০ দশকের দিকে।