Beta
শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
Beta
শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

নতুন দলের নতুন নেতাদের অপেক্ষায় মঞ্চ

manik-mia-avenue-new-party-280225-06
[publishpress_authors_box]

যে অভ্যুত্থানে পতন ঘটেছে শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনের, সেই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে ঘটতে যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ।

শুক্রবার বিকালে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের মঞ্চ এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে। সারাদেশ থেকে সমর্থকরাও চলে এসেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত এই দলের নাম ঠিক হয়েছে- জাতীয় নাগরিক পার্টি। ইংরেজি নাম হবে- National Citizens Party (NCP)।

নতুন এই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বভার গ্রহণ করতে এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা নাহিদ ইসলাম

আহ্বায়ক পদে নাহিদের নাম চূড়ান্ত হলেও কমিটির বাকি পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের খবর গত কয়েকদিন ধরেই ছিল সংবাদমাধ্যমে আলোচনায়।

ঢাকার বাংলামটরের রূপায়ন টাওয়ারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির দফায় দফায় বৈঠকে শেষে সমঝোতা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী থেকে নাহিদ ইসলাম এখন রাজনৈতিক দলে দায়িত্ব নিচ্ছেন।

কমিটিতে কে কোন পদে থাকছেন, সেই ঘোষণা মানিক মিয়া এভিনিউর সমাবেশে আসার কথা থাকলেও সংবাদমাধ্যমে এরই মধ্যে নামগুলো চলে এসেছে।

অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমেই একই রকম নাম এসেছে। তাতে দেখা যায়, আহ্বায়ক নাহিদের সঙ্গে সদস্য সচিবের পদে আসছেন আখতার হোসেন।

ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার ক্যাম্পাসে ছিলেন নাহিদের নেতা। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আখতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সহপাঠি ছিলেন।

নুরুল হক নুরের ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে আখতার যখন গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি নামে একটি সংগঠন গড়েছিলেন, তখন তিনি আহ্বায়ক হয়ে সদস্য সচিব করেছিলেন তার কয়েক বছরের জুনিয়র সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র নাহিদকে।

গত বছরের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন ছাত্র শক্তির নেতারাই। নাহিদসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র শক্তি নেতা এই প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টেই আখতার ছাত্র শক্তি সংগঠনটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পরের মাসে জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠিত হলে তিনি এই ফোরামের সদস্য সচিবের দায়িত্ব নেন, আহ্বায়ক হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

জাতীয় নাগরিক কমিটির এক সভায় সামান্তা শারমিন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আখতার হোসেন।

নতুন দল নাগরিক পার্টিতে নাসীরুদ্দীন প্রধান সমন্বয়কারীর পদ পাচ্ছেন বলে খবর এসেছে। এছাড়া নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ যুগ্ম সমন্বয়ক হচ্ছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আলোচিত দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ নতুন দলে মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল), সারজিস আলম মুখ্য সংগঠকের (উত্তরাঞ্চল) দায়িত্ব পাচ্ছেন।

সালেহউদ্দিন সিফাতকে দপ্তর সম্পাদক পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি এক সময় নুরুল হক নুর নেতৃত্বাধীন ছাত্র অধিকার পরিষদে যুক্ত ছিলেন।

নতুন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে কে আসছেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে একজন নারী এই দায়িত্ব পেতে পারেন বলে খবর বেরিয়েছে। সেক্ষেত্রে তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিভা, মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুমের নাম রয়েছে আলোচনায়।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের জন্য বৃহস্পতিবার রাতভর মানিক মিয়া এভিনিউতে চলে মঞ্চ তৈরির কাজ।

রাতে তোর ছবি দিয়ে নাগরিক কমিটির এক ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, “অপেক্ষার পালা প্রায় শেষ, সারাদেশ থেকে যেইরকম আগ্রহ আপনাদের আমরা অভিভূত। নতুন বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে আপনাদের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রস্তুত।”

এই সমাবেশের কারণে রাজধানীর সবচেয়ে প্রশস্ত সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে দুঃখও প্রকাশ করেছে নাগরিক কমিটি।

মঞ্চে সাজানোর প্রস্তুতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিদল।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কেমন দল হচ্ছে

অভ্যুত্থানের পরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন।

তাদের বক্তব্য, এই অভ্যুত্থানে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য নতুন ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ দরকার, সেই কারণে প্রয়োজন নতুন দল।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার দুপুরে একটি ফেইসবুক পোস্ট দেওয়া হয় জাতীয় নাগরিক কমিটির অফিসিয়াল পেইজ থেকে।  

তাতে বলা হয়, “ইতিহাসের সাক্ষী হতে সবাইকে আমন্ত্রণ!”

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়, “সাধারণ জনগণ এখন পুরনো ব্যবস্থা ভেঙে তরুণদের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চায়। যে বন্দোবস্তে রাজনৈতিক সহিংসতা, দুর্নীতি, পরিবারতন্ত্র এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি থাকবে না। এই পরিবর্তনের ধারা এগিয়ে নিতে আমরা এক নতুন মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছি।”

ডান, বাম, মধ্য- সব পন্থীদের নিয়ে ছাত্রদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি কেমন হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে কৌতূহল।

আখতার এর আগে বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, “আমরা একটা মধ্যপন্থী রাজনীতির কথা বলছি। আমরা বাম-ডান এমন যে বিভাজন আছে, সেগুলোতে ঢুকতে চাই না। আমরা বাংলাদেশ প্রশ্নে এক থাকতে চাই। ইসলাম ফোবিয়ার রাজনীতি অথবা উগ্র ইসলামপন্থী বা উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মধ্যেও আমরা নেই।”

সামান্তা শারমিন বলেছিলেন, “আমরা অধিকারের রাজনীতি, দায় ও দরদের রাজনীতি এগুলোকে সামনে নিয়ে আসব, যাতে এখানে নির্দিষ্ট কোনও মত বা ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে না ওঠে।”

অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনকারীদের যে ক্ষমতা, তার মধ্যে থেকে নতুন দল গঠনের এই উদ্যোগকে অনেক রাজনীতিক নেতাই দেখছেন সন্দেহের চোখে।

বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ একে ‘কিংস পার্টি’ নামেও ডাকছেন। যদিও দল গঠনের উদ্যোক্তারা তা প্রত্যাখ্যান করছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্টো বিএনপিকেই ‘কিংস পার্টি’ বলছেন, কেননা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়ে দলটি গঠন করেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন দল গঠন নতুন না হলেও এবারের প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন। আওয়ামী লীগকে হটাতে অভ্যুত্থানটির নেতৃত্বে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল না। যারা সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে, তারাই এখন রাজনীতির মাঠে নামছে।

আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে নতুন এই দলটি নিবন্ধন সেরে ভোটে অংশ নেওয়ার আগে দল গোছাতে সময় পাবে মাত্র কয়েক মাস।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত