আবার ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, ৫ মাসে আড়াই বিলিয়ন ছাড়াল
মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫৯:০০
দাম ধরে রাখতে আবার ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। ৩০ নভেম্বর কেনা হয় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
এর আগে ডলারের দর ‘স্থিতিশীল’ থাকায় দেড় মাস কোনও ডলার কেনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে ডলারের দর আবার কমতে শুরু করায় ফের ডলার কেনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ নিয়ে পাঁচ মাসে সব মিলিয়ে ২৫১ কোটি (২.৫১ বিলিয়ন) ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই ডলার কেনার কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও বেড়েছে; বিপিএম-৬ হিসাবে ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গ্রস হিসাবে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ডলার কেনার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে ৩০ হাজার কোটির বেশি টাকা দিয়েছে। এতে ডলারের দর স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়েছে। যদিও ডলার কিনে বাজারে টাকা সরবরাহ করায় মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অতিরিক্ত ডলার কেনা ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনও উপায় নেই। কেননা, বাজারে এখন ডলারের সরবরাহ বেশি। এ অবস্থায় না কিনলে ডলারের দর কমে যাবে। তাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
“তবে, এটাও ঠিক যে, ডলার কেনার কারণে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে। তারপরও আমি বলব-অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই দুই সূচকের উর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক কাজটি করছে।”
মুদ্রাবাজারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পর ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৩ জুলাই ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থাৎ ডলারের দর যাতে কমে না যায় সেজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, বাজার স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে। মঙ্গলবার ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা দরে ১৩ ব্যাংকের কাছ থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে।
আগের মতোই বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেইন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাধ্যমে মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে এই ডলার কেনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরিফ খান বলেন, “ডলার দর বেড়ে যাওয়াও অর্থনীতির জন্য ভালো নয়, আবার কমে যাওয়াও ভালো নয়। তাই এ বাজারকে সুস্থির রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে ডলার কিনছে। তাতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য প্রবাহ বাড়ছে।”
বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রথম থেকে হঠাৎ করেই ডলারের দর কমতে শুরু করে; ১২১ টাকা ৫০ পয়সার নিচে নেমে আসে। দাম ধরে রাখতে নিলামে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
১৩ জুলাই প্রথম ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যংক। ওইদিন ১৮টি ব্যাংক থেকে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়। ১৫ জুলাই একই দরে ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, ২৩ জুলাই ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ১ কোটি ডলার কেনা হয়।
এরপর ৭ আগস্ট ১২১ টাকা ৪৭ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১০ আগস্ট ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, ১৪ আগস্ট ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, ২৮ আগস্ট ১২১ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৭০ পয়সা দরে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
২ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, ৪ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, ৯ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১৫ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, গত ২২ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার কেনা হয়।
৬ অক্টোবর ১২১ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৮০ পয়সা দরে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার কেনা হয়। ৯ অক্টোবর কেনা হয় ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ১৩ অক্টোবর ৬ ব্যাংকের কাছ থেকে আরও ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এরপর দেড় মাস অবশ্য কোনও ডলার কেনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে ডলারের দর আবার কমতে শুরু করায় ফের ডলার কেনা শুরু হয়। ৩০ নভেম্বর ১২২ টাকা ২৫ পয়সা দরে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার কেনা হয়।
সবশেষ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) কেনা হয়েছে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর এতেই সব মিলিয়ে ডলার কেনার অঙ্ক আড়াই বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বছর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে ১২২ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
টাকার অবমূল্যায়ন ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে আমদানি বিল পরিশোধে সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে ডলার বিক্রি করছিল, সেখানে এখন চলছে উল্টো প্রবাহ।
গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছর পর্যন্ত গত তিন বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে ২৫ বিলিয়নের বেশি ডলার বিক্রি করে, যা মূলত জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি বিল মেটাতে ব্যবহার হয়েছে।
রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
অর্থনীতির সামর্থ্য প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চলছে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় থেকেই। অভ্যুত্থানের পর গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও উদ্বেগ কাটছিল না।
তবে বছর পার হওয়ার পর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় এবং বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তার ঋণে রিজার্ভ স্বস্তির জায়গায় এসেছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার কারণেও রিজার্ভ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে রিজার্ভ নিয়ে আর উদ্বেগ নেই। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে রিজার্ভ।
গত ৯ নভেম্বর আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১৬১ কোটি (১.৬১ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক; এই দেনা মেটানোর পরও বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে। গ্রস বা মোট হিসাবে রয়েছে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কেনায় বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
এক বছর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ১৮ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ২৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
আকুর নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে আগামী বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। তার আগে রিজার্ভ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
অর্থনীতির সামর্থ্য প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চলছে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় থেকেই। অভ্যুত্থানের পর গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও উদ্বেগ কাটছিল না।
তবে এক বছর পর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় এবং বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তার ঋণ এবং নিলামে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার কারণে রিজার্ভ স্বস্তির জায়গায় এসেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।
গত ৭ জুলাই আকুর মে-জুন মেয়াদের ২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস বা মোট রিজার্ভ নেমেছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে।
৮ মে আকুর মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১৮৮ কোটি ৩০ লাখ (১.৮৮ বিলিয়ন) ডলার বিল পরিশোধ করার পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ২৫ বিলিয়ন ডলারে।
এর আগে গত মার্চে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির জন্য আকুর আমদানির বিল বাবদ ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং জানুয়ারিতে নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়।
সেই দুই বারই আকুর বিল শোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তার মূল্য প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়।
আকুর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এর মধ্যে ভারত পরিশোধ করা অর্থের তুলনায় অন্য দেশগুলো থেকে বেশি পরিমাণে ডলার আয় করে। অন্যদিকে বেশিরভাগ দেশকেই আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় হিসাবে অতিরিক্ত ডলার খরচ করতে হয়।
ব্যাংকগুলো আমদানির খরচ নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেয়, যা রিজার্ভে যোগ হয়। তবে ওই দায় দুই মাস পরপর রিজার্ভ থেকে পরিশোধ করে দেওয়া হয়।
সাড়ে ৪ মাসের আমদানি ব্যয় মিটবে
বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।
সবশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
সে হিসাবেই বর্তমানের ২৭ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাড়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।
এক দশক আগে রিজার্ভের বাড়-বাড়ন্ত নিয়ে মধুর সমস্যায় ছিল বাংলাদেশ। রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এই অর্থ অলস বসিয়ে না রেখে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা ছিল চিন্তার বিষয়।
কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে যায়। তাতে রিজার্ভ কমতে থাকায় দেখা দেয় উদ্বেগ।
রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার শেষের দিকে আইএমএফ থেকে ঋণ নেয়। তাদের শর্ত মেনে ২০২৩ সাল থেকে রিজার্ভের তথ্য গ্রস হিসাবের পাশাপাশি আইএমএফ অনৃসৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতিও প্রকাশ শুরু করে।
এখন বিপিএম-৬ ও গ্রস হিসাবের পাশাপাশি রিজার্ভের নিট বা প্রকৃত হিসাবও করে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সেটি নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না। মাঝে-মধ্যে প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ (তখন বিপিএম-৬ ও নিট হিসাবে প্রকাশ করা হতো না) ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে গত বছরের জুলাই শেষে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।