Beta
শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
Beta
শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

কিছু ব্যাংকের বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ : গভর্নর

আহসান এইচ মনসুর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
[publishpress_authors_box]

দেশের কিছু ব্যাংকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস বিষয়ে টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ’ শীর্ষক দুই দিনের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ‘ম্যাক্রো-ইকোনমিক পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স ইন দ্য ব্যাংকিং সেক্টর’ সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গভর্নর বলেন, “সুসাশনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর পুনর্বাসন সম্ভব কি না, সেটা দেখতে হবে। সব ব্যাংক যে বেঁচে যাবে তা নয়, এটাও সত্যি কথা।

“কিছু কিছু ব্যাংকের বাঁচার সম্ভবনা ক্ষীণ। প্রচেষ্টার পরেও হয়ত হবে না। কারণ কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮৭ শতাংশ হয়ে গেছে। এটার জন্য পুরোপুরি একটি পরিবার দায়ী।”

তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। কারণ তাদের তারল্য সহায়তা লাগছে না। শুধুমাত্র এ দুই ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি সমস্যা সমাধান করলে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা দূর করা যাবে।”

গভর্নর বলেন, “তাই এসব ব্যাংকের ওপর থেকে বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেওয়া হবে। এসব ব্যাংকের নতুন ঋণ দেওয়া ও অন্যান্য বিধিনিষেধ সামনে উঠিয়ে নেওয়া হবে।”

আহসান মনসুর বলেন, “সমস্যা জর্জরতি ব্যাংকের বিষয়ে ব্যাংকের বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার একত্রে সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব ব্যাংকের এসেট কোয়ালিটি রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি বলেন, ব্যাংক আমানতের বীমা দিগুণ করা হয়েছে। এক লাখ টাকা থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শায়ত্বশাসন নিয়ে কাজ করার কথা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংককে সাহস নিয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এফআইডি (আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।

“ব্যাংকের সংস্কার তো চলছে। কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তাই এ বিষয়ে কাজ শেষ করতে সময় লাগবে।”

তিনি বলেন, “ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন এখনই দেওয়ার চিন্তা করছি না। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে (এমএফএস) শক্তিশালী করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। এমএফএস আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে।

“যত বেশি স্বচ্ছতা আনা যাবে, তত ভালো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেটা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্টের তথ্য দিতে ৩ মাসের মতো সময় লাগে। তাই এটা চেষ্টা করা হচ্ছে আরও আগে কীভাবে দেওয়া যায়।”

গভর্নর বলেন, “ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে দিতে হয়েছে। তবে এ টাকা আমানতকারীদের দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয়েছে; এতে সমস্যা হবে না।”

ঋণের সুদহার কমার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার এক মাস আগেও ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ, যা এখন সাড়ে ১০ শতাংশ।

“ব্যাংকাররা সামনে ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করলে ৯ শতাংশ কিংবা সাড়ে ৯ শতাংশ পাবে কি না সন্দেহ। তাই এটাই ইন্ডিকেট করে সামনে ব্যাংকের ঋণের হার কমবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত