শিগগিরই ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে একথা জানান তিনি।
‘আয়নাঘর’ মূলত এক ধরনের বন্দিশিবির। আওয়ামী লীগ শাসনামলে দেশের বিভিন্ন বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক মানুষকে গুম করে বন্দি রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়, যেখানে এমনই একটি বন্দিশিবির ফেরত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনেই বন্দিশিবিরগুলোকে আয়নাঘর হিসেবে অভিহিত করা হয়।
এরপর থেকেই আয়নাঘর শব্দটি বন্দিশিবিরের সমার্থক শব্দ হিসেবে প্রচলিত হয়ে ওঠে।
গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত দ্য কমিশন অব এনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসাপিয়ারেন্স কমিশন জানিয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কার্যালয়ে গোপন বন্দিশালার সন্ধান পাওয়া গেছে। ‘আয়নাঘর’নামে পরিচিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলটি ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরের ভেতরে অবস্থিত। দোতলা ওই ভবনে রয়েছে মোট ২২টি সেল।
রবিবারের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে গুমের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের অনুরোধ জানান কমিশনের সদস্যরা। তারা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করলে গুমের শিকার ব্যক্তিরা আশ্বস্ত হবেন এবং অভয় পাবেন।
বৈঠকে কমিশন সদস্যরা কয়েকটি গুমের ঘটনার নৃশংস বর্ণনা দেন। এমনকি ছয় বছরের শিশুও গুমের শিকার হয়েছে বলে কমিশনের তদন্তে উঠে আসার কথা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা কমিশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বলেন, “আপনাদের তদন্তে যে ঘটনাগুলো উঠে এসেছে তা গা শিউরে ওঠার মতো। আমি শিগগিরই আয়নাঘর পরিদর্শনে যাব।”