খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানুষের ঢল
বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:৫৪:০০
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধেয়ে আসছে লাখো মানুষ।
দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার কফিন সংসদ ভবন চত্বরে প্রবেশ করে। বেলা ২টায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা নামাজে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আব্দুল মালেক।
জানাজাস্থল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ভোর হওয়ার আগেই নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভোলা, বগুড়া ও ময়মনসিংহসহ দেশের দূর-দূরান্তের জেলাগুলো থেকে সাধারণ মানুষ এসে জড়ো হতে শুরু করেছেন। কারো হাতে শোক ব্যানার, কারো চোখে জল।

অনেকেই শীতের রাত উপেক্ষা করে ভোর ৪টায় সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছেছেন। জনস্রোতের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শোকের প্রতীক হিসেবে সবার বুকে ও হাতে দেখা যাচ্ছে কালো ব্যাজ।
শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এখন এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
জানাজা শেষে বেলা সাড়ে ৩টা দিকে খালেদা জিয়াকে তার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার কয়েক হাজার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। অনুমোদিত ছাড়া কাউকে সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
খালেদা জিয়া গতকাল সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে তাঁর স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।