আকুর বিল মিটিয়েও রিজার্ভ ২৭.৮৫ বিলিয়ন ডলার, মিটবে ৫ মাসের আমদানি ব্যয়
বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৩৭:০০
অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নিয়ে আর উদ্বেগ নেই। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানি বিল পরিশোধের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে রিজার্ভ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে আকুর নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের ১৫৩ কোটি (১.৫৩ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করেছে। এরপরও বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস বা মোট রিজার্ভ নেমেছে ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “আকুর ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পরও রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মিটবে। রিজার্ভ নিয়ে আর কোনও চিন্তা নেই; উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই।”
“এখন বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় গ্রহণযোগ্য ও স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তার ঋণ,” বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র।
এছাড়া ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামে ডলার কেনার কারণেও রিজার্ভ বেড়েছে বলে জানান আরিফ খান।
রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। গত কয়েক মাস ধরে রপ্তানি আয় টানা কমলেও রেটেন্সের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে।
এই রেমিটেন্সে ভর করে এবং ডলার কেনার কারণে রিজার্ভ বেড়ে বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিপিএম-৬ হিসাবে ২৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস হিসাবে ছিল ৩৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার আকুর দেনা পরিশোধের পর তা খানিকটা কমে এসেছে।
অর্থনীতির সামর্থ্য প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চলছে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় থেকেই। অভ্যুত্থানের পর গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও উদ্বেগ কাটছিল না।
তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় এবং বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তার ঋণে রিজার্ভ স্বস্তির জায়গায় এসেছে।
নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩৩ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।
২৪ ডিসেম্বর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩২ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ বেড়েছিল ১ দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে বেড়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার।
এক বছর আগে গত বছরের ১ জানুয়ারি বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ২৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।
দুই মাস আগে গত বছরের ৯ নভেম্বর আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১৬১ কোটি (১.৬১ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে।
৭ সেপ্টেম্বর আকুর জুলাই-আগস্ট মেয়াদের ১৫০ কোটি (১.৫০ বিলিয়ন) ডলার পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ৩০ দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন ডলার।
৭ জুলাই আকুর মে-জুন মেয়াদের ২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস বা মোট হিসাবে নেমেছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে।
৮ মে আকুর মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১৮৮ কোটি ৩০ লাখ (১.৮৮ বিলিয়ন) ডলার বিল পরিশোধ করার পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ২৫ বিলিয়ন ডলারে।
এর আগে মার্চে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির জন্য আকুর আমদানির বিল বাবদ ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং জানুয়ারিতে নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়।
সেই দুই বারই আকুর বিল শোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তার মূল্য প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়।
আকুর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এর মধ্যে ভারত পরিশোধ করা অর্থের তুলনায় অন্য দেশগুলো থেকে বেশি পরিমাণে ডলার আয় করে। অন্যদিকে বেশিরভাগ দেশকেই আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় হিসাবে অতিরিক্ত ডলার খরচ করতে হয়।
ব্যাংকগুলো আমদানির খরচ নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেয়, যা রিজার্ভে যোগ হয়। তবে ওই দায় দুই মাস পরপর রিজার্ভ থেকে পরিশোধ করে দেওয়া হয়।
৫ মাসের আমদানি ব্যয় মিটবে
বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।
সবশেষ গত অক্টোবর মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
সে হিসাবে বর্তমানের ২৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।
এক দশক আগে রিজার্ভের বাড়-বাড়ন্ত নিয়ে মধুর সমস্যায় ছিল বাংলাদেশ। রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এই অর্থ অলস বসিয়ে না রেখে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা ছিল চিন্তার বিষয়।
কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে যায়। তাতে রিজার্ভ কমতে থাকায় দেখা দেয় উদ্বেগ।
রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার শেষের দিকে আইএমএফ থেকে ঋণ নেয়। তাদের শর্ত মেনে ২০২৩ সাল থেকে রিজার্ভের তথ্য গ্রস হিসাবের পাশাপাশি আইএমএফ অনৃসৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতিও প্রকাশ শুরু করে।
এখন বিপিএম-৬ ও গ্রস হিসাবের পাশাপাশি রিজার্ভের নিট বা প্রকৃত হিসাবও করে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সেটি নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না। মাঝে-মধ্যে প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ (তখন বিপিএম-৬ ও নিট হিসাবে প্রকাশ করা হতো না) ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে গত বছরের জুলাই শেষে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।
৭ দিনেই এল ৯১ কোটি ডলার রেমিটেন্স
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেও জোয়ার বইছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে। এই মাসের প্রথম সাত দিনেই ৯০ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা।
এই অঙ্ক গত বছরের জানুয়ারির একই সময়ের চেয়ে ৬৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।
সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ছয় মাস সাত দিনে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি) ১ হাজার ৭১৭ কোটি ২০ লাখ (১৭.১৭ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ (৩.২৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ২২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি।
আগের মাস নভেম্বরে এসেছিল ২৮৯ কোটি (২.৯ বিলিয়ন) ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ (২.৫৬ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা; বেড়েছিল ৭ দশমিক শুন্য তিন শতাংশ। সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ (২.৬৮ বিলিয়ন) ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ (২.৪৮ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা; বেড়েছিল ২৯ দশমিক ৫০ শতাংশ দ্বিতীয় মাস আগস্টে আসে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ (২.৪২ বিলিয়ন) ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ শতাংশের বেশি।
একক মাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত মার্চ মাসে; রোজা ও ঈদ সামনে রেখে ওই মাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স আসে দেশে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমটেন্স এসেছে গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে—৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দুই মাসেই কেবল ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে দেশে।
তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৯৬ কোটি ৯৫ লাখ (২.৯৭ বিলিয়ন) ডলার আসে গত বছরের মে মাসে। চতুর্থ সর্বোচ্চ ২৮২ কোটি ২৫ লাখ (২.৮২ বিলিয়ন) ডলার এসেছে জুনে।
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা সঙ্কটে পড়া অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে।
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৩ হাজার ৩২ কোটি ৭৫ লাখ (৩০.৩৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থ বছরের (২০২৩-২৪) চেয়ে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
গত অর্থ বছরে প্রতি মাসে গড়ে রেমিটেন্স এসেছিল ২৫১ কোটি ৯৮ লাখ (২.৫২ বিলিয়ন) ডলার। চলতি অর্থ বছরে ছয় মাসের হিসাবে গড়ে এসেছে ২৭১ কোটি ৬ লাখ (২.৭১ বিলিয়ন) ডলার।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরে রেমিটেন্স এসেছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ২২ লাখ ডলার। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আসে ২ হাজার ২৬১ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থ বছরে এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ডলার।
২০২০-২১ অর্থ বছরে আসে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এসেছিল ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার।
৬ মাসে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
এদিকে দাম ধরে রাখতে ডলার কিনেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবারও (৮ জানুয়ারি) নিলামের মাধ্যমে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ১৫ ব্যাংকের কাছ থেকে ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে।
দুই দিন আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) একই দরে ১৪ ব্যাংকের কাছ থেকে ২২ কোটি ২৫ লাখ ডলার কেনা হয়। নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি কেনা হয়েছিল ১৮ কাটি ৭৫ লাখ ডলার।
এ নিয়ে চলতি মাসের আট দিনে তিন দফায় ৬১ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে কেনা হয়েছিল ১ দশমিক শূন্য নয় বিলিয়ন ডলার।
সব মিলয়ে গত ছয় পাঁচ মাসে (গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে নতুন বছরের ৮ জানুয়ারি) ৩৭৫ কোটি ২৫ লাখ (৩.৭৫ বিলিয়ন) ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আর এই ডলার কেনার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছয় মাসে ব্যাংকগুলোকে ৪৫ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা) দিয়েছে। এতে ডলারের দর স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়েছে।
ডলার কিনে বাজারে টাকা সরবরাহ করায় মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা প্রভাব পড়ছে বলে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন।
মুদ্রাবাজারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পর ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে উল্লম্ফনে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থাৎ ডলারের দর যাতে কমে না যায় সেজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।