Beta
Logo

সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কানাডা যুক্তরাজ্য ছাড়া অন্য সব বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে

কানাডা যুক্তরাজ্য ছাড়া অন্য সব বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে
আবদুর রহিম হারমাছি
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৫৯:০০

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান খাত তৈরি পোশাক। মোট আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে।

 

আর একক দেশ হিসেবে এই পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পোশাক রপ্তানি করে যে আয় হয়, তার ২০ শতাংশের মতো আসে এই দেশটি থেকে। দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হচ্ছে জার্মানি; ১০ শতাংশের মতো আসে ইউরোপের এই দেশটি থেকে।

 

সামগ্রিক হিসাবে পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ যে বিদেশি মুদ্রা আয় করে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি থেকে।

 

কিন্তু উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে, ট্রাম্প শুল্কের ধাক্কায় এই দুই বড় বাজারসহ প্রায় সব দেশেই পোশাক রপ্তানি কমছে; ওলোটপালট করে দিয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সব হিসাবনিকাশ। টানা পাঁচ মাস ধরে কমছে রপ্তানি আয়। কানাডা ও যুক্তরাজ্য ছাড়া অন্য সব বাজারেই পোশাক রপ্তানি কমছে।

 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রপ্তানি আয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন নিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছর শুরু হয়। অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৭৯ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, যা ছিল গত অর্থ বছরের একই মাসের চেয়ে ২৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ বেশি।

 

২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জুলাই মাসে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

 

কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসেই ধাক্কা খায়; কমে যায় ৩ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ । ওই মাসে ৬৫ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। গত অর্থ বছরের আগস্টে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৭ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

 

তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে নামমাত্র প্রবৃদ্ধি হয়; দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। রপ্তানি হয় ৫৬ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পোশাক। গত অর্থ বছরের সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৫৬ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

 

চতুর্থ মাস অক্টোবরে এসে ফের ধাক্কা; কমেছে ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। রপ্তানি হয় ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পোশাক। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের অক্টোবরে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৬০ কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

 

পঞ্চম মাস নভেম্বরে এই বাজারে রপ্তানি হয় ৬৩ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক। গত অর্থ বছরের নভেম্বরে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। কমেছে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।

 

অর্থ বছরের ষষ্ঠ এবং গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এই মাসে ৫৯ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থ বছরের ডিসেম্বরে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৬৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

 

ছয় মাসের হিসাবে অর্থাৎ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ। এই ছয় মাসে ৩৮৩ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার (৩.৮৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থ বছরের একই সময়ে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৩৮৪ কোটি ২৬ লাখ ৪০ হাজার (৩.৮৪ বিলিয়ন) ডলার।

 

অথচ পাঁচ মাসে অর্থাৎ অর্থ বছরের জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত এই বাজারে পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক (পজিটিভ) প্রবৃদ্ধি ছিল বাংলাদেশের।

 

দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক আমদানিকারক দেশ জার্মানির অবস্থা আরও খারাপ। এই ছয় মাসে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে জার্মানিতে ২১৮ কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার (১.৪৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থ বছরের একই সময়ে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ২৪৬ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার (১.৫৪ বিলিয়ন) ডলার।

 

বাংলাদেশের পোশাকের আরেকটি বড় বাজার ফ্রান্সেও রপ্তানি কমেছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এই বাজারে ৯৭ কোটি ১৮ লাখ ৮০ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ কম।

 

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। এই ছয় মাসে ইউরোপের বাজারে ৯৪৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার (৯.৪৬ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থ বছরের একই সময়ে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

 

অন্যদিকে ভারত, চীন, জাপান, রাশিয়া ও অষ্ট্রেলিয়াসহ অপ্রচলিত ১৬ দেশের বাজারেও পোশাক রপ্তানি কমেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এই ছয় মাসে অপ্রচলিত বাজারে ৩১৮ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার (৩.১৮ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থ বছরের একই সময়ে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

 

ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, কানাডা ও যুক্তরাজ্য ছাড়া বড় দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি এবং অপ্রচলিত বাজারে ধাক্কার কারণেই সার্বিকভাবে পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে গত অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

 

অথচ প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থ বছর শেষ হয়েছিল।

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ১ হাজার ৯৩৬ কোটি ৫৪ লাখ (১৯ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থ বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১৯ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক।

 

তবে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় এখনও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই ছয় মাসে যুক্তরাজ্যে ২২১ কোটি ১৬ লাখ (২.২১ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি।

 

অন্যদিকে কানাডায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কানাডায় ৬৭ কোটি ১৫ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থ বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৬৪ কোটি ১৫ লাখ ডলারের পোশাক।

 

অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। গত অর্থ বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থ বছরেও এই দুই সূচকে ঊর্ধ্বমুখী ধারা নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থ বছর শুরু হয়েছিল।

 

এই আর্থিক বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিটেন্স বেড়েছিল ২৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থ বছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিটেন্স বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

 

কিন্তু রেমিটেন্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকলেও রপ্তানি আয় কমছেই। চলতি অর্থ বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) সামগ্রিক রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। সবশেষ ডিসেম্বরে কমেছে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।

 

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের ধসের কারণেই রপ্তানি বাণিজ্যে এই বেহাল দশা হয়েছে। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই তিন মাসকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে পোশাক রপ্তানির ভরা মৌসুম (পিক আওয়ার) বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই তিন মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে বেশি আয় হয়ে থাকে।

 

কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাম্প শুল্পের ধাক্কায় ওলোটপালট পরিস্থিতিতে এই টালমাটাল অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

 

গত কছরের এপ্রিল থেকে ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে একধরনের অস্থিরতা ছিল। ৩১ জুলাই বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাল্টা শুল্ক এড়াতে জুলাই মাসে অনেক পণ্য জাহাজীকরণ হয়েছে। স্থগিত থাকা অনেক পণ্যও রপ্তানি হয়। সে কারণে জুলাই মাসে রপ্তানি অনেক বেড়েছিল বলে মনে করেন পোশাক রপ্তানিকারকরা।

 

৭ আগস্ট থেকে ট্রাম্প শুল্ক কার্যকর হয়েছে বাংলাদেশে। পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য শুল্ক ঘোষণা করেন। তাতে বাংলাদেশের শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমে হয় ২০ শতাংশ।

 

প্রতিযোগী দেশের তুলনায় পাল্টা শুল্ক কাছাকাছি হওয়ায় দুশ্চিন্তামুক্ত হন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা। কিন্তু এর পরও রপ্তানি আয় কমায় এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রপ্তানিকারকদের।

 

কেনো কমছে জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহার সারা বিশ্বের রপ্তানি বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও, যেখানে আমাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য ধাক্কা খাচ্ছে।”

 

“এ ছাড়া ভারত ও চীনসহ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের কারণে ওই বাজারে রপ্তানি করতে পারছে না, তারা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানির জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। ফলে তারা মূল্য কমিয়ে দিয়ে পোশাক রপ্তানির অর্ডার নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা একই ধরনের পণ্যের অর্ডার নিতে পারছেন না। ফলে ইউরোপীয় বাজারেও আমাদের রপ্তানি কমছে।”

 

“তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে—তারা কীভাবে পারছে? এর কারণ হলো—ভারত সরকার মার্কিন শুল্কজনিত ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ সহায়তা দিচ্ছে। গত সপ্তাহেও তারা এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি গতকালও ভারত সরকার ৭ হাজার কোটি রুপির আরও একটি প্যাকেজ সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে।”

 

“অন্যদিকে, আমাদের সরকার আইএমএফ কর্মসূচি ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের যুক্তি দেখিয়ে রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তাসহ নানা সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যে সামান্য সহায়তা অবশিষ্ট ছিল, তার মেয়াদও ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। সেটি নবায়নের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি, যা রপ্তানিকারকদের টিকে থাকতে সহায়তা করবে।”

 

“অন্যথায় রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের স্পিনিং মিল গুলো, একটার পর একটা গার্মেন্টস বন্ধ হচ্ছে, যা রপ্তানি খাতের জন্য অসনি সংকেত।”

 

“এ ছাড়া সাধারণত যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের আগে আমাদের রপ্তানি আদেশ কিছুটা কমে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে নির্বাচনের পর সরকার যদি শিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আগামী জুনের পর থেকে রপ্তানি আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে,” বলেন মোহাম্মদ হাতেম।

 

একই কথা বলেছেন দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।

 

তিন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমাদের প্রধান বাজার আমেরিকা ও ইউরোপ। ওই দুই জায়গাতেই রপ্তানি ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্প শুল্কের কারণে আমেরিকার বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। সে কারণে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এখন তারা তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য কম কিনছে। তার একটা প্রভাব পড়েছে আমাদের রপ্তানিতে।”

 

“অন্যদিকে বাড়তি শুল্ক আরোপ করায় আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্ধি চীন ও ভারত আমেরিকার বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে ইউরোপের বাজারে আগের চেয়ে বেশি বেশি পণ্য রপ্তানি করছে। অনেকে ক্ষেত্রে কম দামেও পোশাক রপ্তানি করছে তারা। সে কারণে ইউরোপের বাজারেও আমাদের রপ্তানি কমছে।

 

অর্থনীতির গবেষক বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “এমনিতেই বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির প্রধান দুই সূচক রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় সংকট কেটে যাওয়ার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু রপ্তানি আয় কমায় সেটা হোঁচট খেয়েছে।”

 

“রপ্তানি আয় যাতে না কমে, সেদিকে এখন সরকার ও রপ্তানিকারকদের নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, এভাবে রপ্তানি আয় কমলে রিজার্ভেও কিন্তু টান পড়বে। শুধু রেমিটেন্স দিয়ে রিজার্ভের পতন ঠেকানো যাবে না।”

আরও