ফিফা উইন্ডোতে উপমহাদেশের অন্য দেশগুলো যখন সুযোগটা পুরো কাজে লাগাবে তখন বাংলাদেশ খেলবে মাত্র একটি ম্যাচ! প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২৬ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি খেলতে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে সোমবার রাতে ঢাকা ছেড়ে এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছেও গেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সেখানে গিয়ে এরপর অবশ্য বাংলাদেশ আরেকটি ম্যাচ খেলবে ২ মার্চ। ফিফা উইন্ডোর বাইরে হওয়ায় যেটিকে প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবেই ধরা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে নানা নাটকীয়তায় ভরা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য এই ম্যাচ দুটি হতে যাচ্ছে চ্যালেঞ্জের। অন্তত বৃটিশ কোচ পিটার বাটলারের জন্য এক রকম এসিড টেস্টই হবে এবারের দুবাই সফর।
বাংলাদেশ জাতীয় নারী দল আগে কখনও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলেনি। যদিও বয়সভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে এর আগে খেলেছে। কিন্তু আমিরাতের বিপক্ষে জাতীয় দল কেমন খেলবে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।
কেমন হয়েছে নতুন দল
টানা দুটি সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ ১৮ জন ফুটবলার নেই এবারের দলে। সাবিনা খাতুন, সানজিদা আক্তার, মনিকা চাকমাসহ বিদ্রোহী নারী ফুটবলারদের সবাই ছুটি নিয়ে ক্যাম্প ছেড়েছেন। সর্বশেষ সাফের দল থেকে ৮ জন আছেন ২৩ সদস্যের নতুন দলে। এই ৮ জনের মধ্যে সাফের একাদশে খেলেছেন শুধুই নতুন অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। বাকি ১৫ জনই অনূর্ধ্ব-২০ দলের। যাদের মধ্যে ৯ ফুটবলার একেবারে নতুন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাদের কোনও অভিজ্ঞতা নেই।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের পার্থক্য
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে আরব আমিরাত। যেখানে বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং ১৩২, আমিরাতের ১১৬। তাই নতুন দলের জন্য এই লড়াই কেমন হবে, সেটা দেখার বিষয়। তবে আশাবাদী মানুষের সংখ্যা কম। অভিজ্ঞ মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমারা দলে থাকলে হয়তো চোখে চোখ রেখে লড়তে পারতো।
বাস্তববাদী বাটলার
কচিকাচাঁদের মেলা বসিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে সাফল্য পাওয়া সহজ না সেটা জানেন অভিজ্ঞ কোচ পিটার বাটলারও। বাস্তবতা মেনে নিয়েই তিনি যাওয়ার আগের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমরা যে পর্যায়ে আছি, সেটা নিয়ে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। এই দলটা নতুন, তাই ধৈর্য ধরতে হবে। তাদের ওপর অনেক আস্থা রেখেছি আমি।”
এরপর যোগ করেন, “আমরা সবাই জিততে চাই। আমি নিজেও যেকোনো খেলায় জয়ের জন্যই নামি। কিন্তু আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। প্রত্যাশার মাত্রাটা অনেকটাই সংবাদ মাধ্যমের ওপর নির্ভর করছে। এই মেয়েরা তরুণ। ভবিষ্যতের জন্যই এই নতুন দল গড়া। এখানে মেয়েদের সুযোগ দেওয়াটাই আসল। আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারিনি। আরও সময় পেলে ভালো হতো। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা সেখানে (আরব আমিরাতে) যাচ্ছি এবং যাদের নেওয়া হয়েছে, তারা সুযোগ পাচ্ছে।’
সাফের সাফল্য তাকে মোটেও রোমাঞ্চিত করে না। বরং তিনি এগিয়ে যেতে চান সামনের দিকে, “সাফের কথা ভুলে যান, সেটা এখন অতীত। সময় এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার। পেছনে তাকানোয় ক্ষতি নেই, তবে পেছনে পড়ে থাকলে চলবে না। আমরা নতুন অধ্যায় লেখার চেষ্টা করছি। তাছাড়া যারা সারাজীবন একই পর্যায়ে খেলতে চায়, তাদের নিয়ে আমি দল সাজাতে রাজি নই। আমার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট— আমার সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে; হয় এক কোণে বসে হতাশায় কান্না করব, নয়তো পরিস্থিতি মেনে নিয়ে ইতিবাচকতার সঙ্গে এগোব। আমি ইতিবাচক থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাইরের আলোচনা আমাকে প্রভাবিত করে না। কারণ আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেই।”
আশাবাদী অধিনায়ক আফঈদা
অধিনায়ক হিসেবে সাবিনা যুগের অবসান হয়েছে এরই মধ্যে। সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা সাবিনার উত্তরসূরী আফঈদাও যেন ভয়ডরহীন মেয়ে। সংবাদ সম্মেলনে বললেন, কোনও চাপ নেই সিনিয়ররা না থাকায়, “আমি চাপ অনুভব করছি না। সিনিয়রদের অভাবও অনুভব করছি না। কারণ আগেও আমি এদের (বর্তমান দলের সতীর্থদের) সঙ্গে নিয়ে খেলেছি; অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে। সিনিয়ররা যে ধাপে ধাপে অনুশীলন করেছে, আমরাও সেই ধাপে ধাপে অনুশীলন করেছি। ”
দুবাইয়ে দল হিসেবে বাংলাদেশ ভালো খেলবে এমনটাই প্রত্যাশা অধিনায়কের। তিনি বলেন, “আমাদের ফরোয়ার্ড লাইন ভালো। ডিফেন্স, মিডফিল্ডও ভালো। আমাদের পুরা দলটাই ভালো। ইনশাল্লাহ আমরা ভালো ফল করেই দেশে ফিরব।”