Beta
Logo

সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগ : সিপিডি

নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগ : সিপিডি
সকাল সন্ধ্যা প্রতিবেদন
শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৫২:০০

নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিনিয়োগ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় দেশে বিনিয়োগে যে মন্দা দেখা দিয়েছে—তা কাটিয়ে দেশে বিনিয়োগ সহায়ক অনুকুল পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হবে নির্বাচন–পরবর্তী নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এমনটাই মনে করছে। নতুন সরকারের প্রধান কাজ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা।

 

সিপিডি বলেছে, নির্বাচন–পরবর্তী নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি। এখনকার বিনিয়োগ স্থবিরতা নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। ব্যাংকের উচ্চ সুদহার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে না।

 

শনিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে সিপিডি নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা হয়।

 

এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

 

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিনিয়োগ না বাড়লে বৈষম্য ও অস্থিরতা বাড়বে। তিনি বলেন, সমাজে যদি ন্যায়সংগত সুযোগ না থাকে, তাহলে একদিকে বৈষম্য তৈরি হয়, অন্যদিকে অস্থিরতা দেখা দেয়।

 

উদাহরণ দিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে আন্দোলন হয়, তার পেছনেও এই বাস্তবতা কাজ করেছে। বাজারে চাকরি নেই, সরকারি চাকরিই একমাত্র ভরসা, সেখানেও কোটা–সংকট। এর সঙ্গে যুক্ত হয় উচ্চ মূল্যস্ফীতি। সব মিলিয়ে মানুষের জীবনে প্রবল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল।

 

“এ বাস্তবতায় অর্থনীতিতে যে বিনিয়োগের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে আমরা যদি বেরোতে না পারি, তাহলে এই সমস্যাগুলো জিইয়ে থাকবে।”

 

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ফাহমিদা খাতুন বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো উদ্যমী তরুণ জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ জাতি হিসেবে এখনো তরুণ—মানুষের গড় বয়স মাত্র ২৬ থেকে ২৭ বছর। এই তরুণদের যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলেই অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।’

 

“আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে প্রযুক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি আছে তরুণদের,” বলেন তিনি।

 

নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা

 

নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফাহমিদা খাতুন বলেন, “নির্বাচন পরিচালনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আমরা চাই, আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হোক। অর্থের অপব্যবহার যেন না হয়, সে জন্য নীতিমালা আছে; প্রত্যেক প্রার্থীকে তা মানতে হবে। নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি যেন না হয়।”

 

“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচন যেন সহিংসতামুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দিতে পারেন। আমরা এমন নির্বাচন দেখতে চাই।”

 

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দেশি–বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়ছে। জাতীয় বাজেটের প্রধান খাত এখন ঋণের সুদ পরিশোধ। এই চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়তে পারে, এমন ঝুঁকি আছে।”

 

বিশ্ববাজারে চালের দাম কমলেও দেশে প্রতিফলন নেই

 

বিশ্ববাজারে চালের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেলেও দেশের বাজারে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দেশে চাল উৎপাদনে ঘাটতি না থাকলেও দাম বাড়ার পেছনে উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি।

 

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার তথ্য উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, “দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও চালের দাম বাড়ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

 

“উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে শক্তিশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ভোক্তারা সুফল পাচ্ছেন না।”

 

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, কিন্তু দেশের বাজারে সেই প্রভাব নেই। একই চিত্র চিনি ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে দাম না কমা বাজারে প্রতিযোগিতা ও নজরদারির অভাবকে স্পষ্ট করে।”

 

সিপিডির গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৩ সাল থেকে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সেই গতি খুব ধীর। ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে রয়ে গেছে। ফলে চালের মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের দামের সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির যোগসূত্র আরও দৃঢ় হচ্ছে।

 

সিপিডি বলেছে, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না করা গেলে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল দেশের ভোক্তারা পাবেন না। এজন্য চালসহ নিত্যপণ্যের বাজারে নজরদারি জোরদার করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।

 

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেমসহ সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও