কক্সবাজারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে বিমান সেনাদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
সেখানে বিমান সেনারা কোনও তাজা গুলি ছোড়েনি দাবি করে আইএসপিআর বলেছে, সংঘর্ষের সময় আহত অবস্থায় শিহাব কবির নাহিদ নামে এক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিমানবাহিনীর গাড়িতে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
নাহিদের মৃত্যুর পাশাপাশি বিমান ঘাঁটিটির নাম নিয়েও অপপ্রচার চলছে দাবি করে আইএসপিআর জানায়, ওই ঘাঁটির নাম বিমান ঘাঁটি, কক্সবাজার তিন বছর ধরে বহাল রয়েছে।
সোমবার দুপুরে আইএসপিআর কক্সবাজার বিমান ঘাঁটিতে স্থানীয় একদল দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলার খবর দিয়েছিল।
এরপর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিরোধে ঘাঁটির পাশের সমিতি পাড়ার বাসিন্দাদের সঙ্গে ওই সংঘর্ষ বেঁধেছিল এবং তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নাহিদ নামে ওই যুবকের মৃত্যু ঘটে।
এরপর সন্ধ্যায় পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আইএসপিআর থেকে ‘অতর্কিত হামলা সম্পর্কিত মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর সংবাদ এবং অপতথ্য সর্ম্পর্কে’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আসে।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে তাতে বলা হয়, বিয়াম স্কুলের পাশে বিমানবাহিনীর চেকপোস্ট থেকে একজন স্থানীয়কে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় বিমানবাহিনীর প্রভোস্টের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘাঁটির ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় সমিতি পাড়ার দুইশরও বেশি মানুষ বিমানবাহিনীর ঘাঁটির দিকে এগিয়ে এলে বিমানবাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। এরপরও স্থানীয়দের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বিমানবাহিনীর চেকপোস্ট এলাকায় বাহিনীর সদস্য ও সমিতি পাড়ার কিছু দুষ্কৃতকারীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ষংঘর্ষের বর্ণনা দিয়ে আইএসপিআর বলেছে, “ঘটনাস্থলে কিছু কুচক্রী মহলের ইন্ধনে দুর্বৃত্তরা বিমানবাহিনীর সদস্যদের উপর ইট পাটকেল ছোড়ে। সংঘর্ষের সময় স্থানীয় জনগণের ইটপাটকেলের আঘাতে বিমান বাহিনীর গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। এছাড়া স্থানীয়রা ঝোপঝাড়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে।
এসময় দুর্বৃত্তদের ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন আহত হন, যার মধ্যে বিমানবাহিনীর ৪ জন (১ জন অফিসার ও ৩ জন বিমানসেনা) সদস্যও ছিলেন। এছাড়া শিহাব কবির নাহিদ নামের এক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় বিমানবাহিনীর গাড়িতে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন।”
সংঘর্ষের সময় ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছিল জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার্থে বিমানবাহিনীর সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে, তবে স্থানীয় জনসাধারণের ওপর কোনও তাজা গুলি ছোড়া হয়নি।”
বিমানবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সোশাল মিডিয়ায় গুলিতে যুবক নিহতের ঘটনার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রচারিত গুলির খোসার ছবিটি পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায় যে, খোসাটি ফাঁকা গুলির, যা প্রাণঘাতী নয় এবং শুধু শব্দ তৈরি করে।”
নাহিদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর শোক প্রকাশের কথা জানিয়েছে আইএসপিআর। আহত বিমান সেনাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
বিমান ঘাঁটির নাম নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে বিমানবাহিনী ঘাঁটি, কক্সবাজারের নাম বিমানবাহিনী ঘাঁটি শেখ হাসিনা উল্লেখ করা হচ্ছে, যা সত্য নয়।
“উক্ত ঘাঁটির নাম ২ ডিসেম্বর ২০২১ সালে সরকারি প্রজ্ঞাপনে পরিবর্তন করে বিমানবাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার রাখা হয়, যা বর্তমানেও বহাল রয়েছে।”