Beta
শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
Beta
শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

নাঈমুল ইসলাম খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

মো. নাঈমুল ইসলাম খান। ফাইল ছবি
মো. নাঈমুল ইসলাম খান। ফাইল ছবি
[publishpress_authors_box]

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান, তার স্ত্রী নাসিমা খান মন্টি, তিন মেয়ে লাবিবা নাঈম খান, যুলিকা নাঈম খান এবং আদিভা নাঈম খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দিয়েছে। মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক আফরোজা হক খান আবেদনটি করেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাস দুয়েক আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের এমিরেটাস এডিটর নাঈমুল ইসলাম খান।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনিসহ তার পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ওই আন্দোলন ঘিরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ যে ৫২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে তাদের একজন নাঈমুল ইসলাম খান।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, নাঈমুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ভিন্ন কোনও উৎস অর্থাৎ ঘুষ বা অবৈধ উপায়ে অর্থ অর্জনপূর্বক ওই অর্থের উৎস আড়াল করার জন্য তার নামীয়, তার স্ত্রী ও তার তিন মেয়ের নামীয় ১৬৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৮৬ কোটি টাকা জমা, ৩৭৯ কোটি টাকা উত্তোলন ও বর্তমানে ৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা স্থিতি থাকাসহ অবৈধ অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনয়ন করে মানি লন্ডারিং করাসহ নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুই সদস্যবিশিষ্ট টিম গঠন করা হয়।

অনুসন্ধানকালে গোপনসূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য তাদের বিদেশ গমন রহিত করা একান্ত প্রয়োজন।

শুনানি শেষে আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন মঞ্জুর করে।

শামীম ওসমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

একই আদালত এদিন টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে নারায়ণঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

আদালদ তার স্ত্রী সালমা ওসমান, ছেলে ইমতিনান ওসমান এবং লাবিবা জোহা অঙ্গনার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদকের আবেদনে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শামীম ওসমানকে ভারতে দেখা গেলও তার পরিবারের সদস্যদের কোথাও দেখা যায়নি।

মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক রেজাউল করিম আবেদনটি করেন।

আবেদনে বলা হয়, শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে টেন্ডার বাণিজ্য, বিভিন্ন খাতে বেপরোয়ারা চাঁদাবাজি, পরিবহণ ও ঝুট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণ, দলীয় পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্য, জমি দখল, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক বিদেশে পাচার করে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয় ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনাসহ নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে শত শত কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পালাতে পারেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ফরাছত আলীর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা

দুদকের আরেক আবেদনে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী এবং সাবেক পরিচালক সরোয়ার জামান চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে একই আদালত।

দুদক উপপরিচালক আফরোজা হক খানের করা আবেদনে বলা হয়, ফরাছত আলী ও সরোয়ার জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, হুন্ডির ব্যবসা, ঋণ প্রদানে অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়।

অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের বিদেশ গমন রহিত করা একান্ত প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত