ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাত দিয়েছে ‘রাষ্ট্র সংস্কারে’; সেই কাজ এগিয়ে নিতে কাজ করছে কয়েকটি সংস্কার কমিশন; তার একটি স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন এরই মধ্যে দিয়েছে প্রতিবেদন, সেখানে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রত্যক্ষ ভোট তুলে দেওয়ার সুপারিশ এসেছে।
সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কেবল সদস্য বা কাউন্সিলররা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। এরপর নির্বাচিত কাউন্সিলর ও সদস্যরা তাদের মধ্য থেকে একজনকে ভোট দিয়ে মেয়র বা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের ভাষ্য, সংসদীয় আদলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনঃস্থাপনের কথা ভাবা হচ্ছে। এতে নির্বাচিত পরিষদ বা কাউন্সিল শক্তিশালী হবে। যৌথ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
তবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত হয়ে আসা জনপ্রতিনিধিরা এই সুপারিশে আপত্তি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এতে সদস্য বা কাউন্সিলরদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বেন চেয়ারম্যান ও মেয়ররা।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউও তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদকে প্রধান করে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় গত নভেম্বরে।
সাত সদস্যের এই কমিশন প্রাথমিক সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন গত সপ্তাহে জমা দেওয়ার পর গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় তা প্রকাশ করে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে ১৪টি ক্ষেত্রে সংস্কারের মোট ২১০টি প্রস্তাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, মার্চ মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।
কী আছে সুপারিশমালায়
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশমালায় দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দুটি ভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। একটি হচ্ছে গ্রামীণ স্থানীয় সরকার, আরেকটি নগর স্থানীয় সরকার।
গ্রামীণ স্থানীয় সরকারে থাকবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ এবং নগর স্থানীয় সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠান হবে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন।
এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইন ও সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার প্রস্থাব করা হয়েছে।
সংস্কার কমিশন স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান— ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পরিষদ এবং পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথক আইন ও বিধিমালা বাতিলের সুপারিশ করেছে।
বলা হয়েছে, “এসব আইন ও বিধিসমূহ বাতিল করে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ দুটি একীভূত এবং স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।”
ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদকে একটি আইনের অধীন এবং পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে আরেকটি আইনের অধীনে আনার সুপারিশ করেছে কমিশন।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রতীক না রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন।
সুপারিশে জেলা পরিষদের সদস্যদের জনগণের সরাসরি বা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এই সদস্যদের ভোটে তাদেরই একজন নির্বাচিত হবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ হবে ‘পরিকল্পনা ইউনিট’। আর উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ হবে ‘বাস্তবায়ন ইউনিট’। উপজেলা পরিষদ থেকে দুই ভাইস চেয়ারম্যান পদ তুলে দেওয়ারও সুপারিশ করেছে কমিশন।
সাংগঠনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন: সুপারিশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামো দুটি প্রধান অংশে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। একটি বিধানিক অংশ, দ্বিতীয়টি নির্বাহী অংশ। বিধানিক অংশে প্রধানকে বলা হবে সভাধ্যক্ষ। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের মতো দায়িত্ব পালন করবেন। আর নির্বাহী অংশের প্রধান হবেন মেয়র বা চেয়ারম্যান।
নির্বাচিত কাউন্সিলর বা সদস্যরা পরিষদের প্রথম সভায় ভোট দিয়ে একজন সভাধ্যক্ষ নির্বাচিত করবেন। পরে সভাধ্যক্ষের সভাপতিত্বে মেয়র বা চেয়ারম্যান নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। কাউন্সিলররা বা সদস্যরা নিজেদের মধ্যে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে মেয়র বা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন। আর নির্বাচিত মেয়র বা চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়ে আইন অনুযায়ী তিন বা পাঁচ সদস্যের ‘নির্বাহী কাউন্সিল’ গঠন করবেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: সুপারিশে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কথাও বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও মেয়রের ক্ষেত্রে স্নাতক এবং নির্বাহী সদস্যদের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক পাস নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নারী প্রতিনিধিত্ব: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে প্রচলিত সংরক্ষিত নারী আসন পদ্ধতি পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। এতে বলা হয়েছে, পুরো পরিষদের ও কাউন্সিলের মোট ওয়ার্ডের এক তৃতীয়াংশ (একক আসন) প্রতি নির্বাচনে নারীদের জন্য ঘূর্ণায়মান পদ্ধতি সংরক্ষিত রাখা হবে। স্থানীয় সরকারের প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যরা পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান ও মেয়র কাউন্সিলের নির্বাহী পরিষদের এক-তৃতীয়াংশ সদস্যপদ পাবেন।
উপজেলা ও ইউনিয়নে বিচার ব্যবস্থা: সুপারিশের স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা অংশে ইউনিয়ন পরিষদের অধীন থাকা গ্রাম আদালত বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়, কমিশনের বিচারবিষয়ক প্রধান সুপারিশ হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া সারা দেশের সব উপজেলায় আগামী দুই বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত স্থাপন করা। পাশাপাশি একই পদমর্যাদায় প্রতিটি উপজেলায় ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর)’ জন্য একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ নিয়োগ এবং এর পূর্ণাঙ্গ কার্যালয় স্থাপন করা। ইউনিয়ন পরিষদের অধীন ‘গ্রাম আদালত’ বিলুপ্ত করে ওয়ার্ড পর্যায়ে সালিসি ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দান এবং সালিসগুলোর তত্ত্বাবধান, সালিসকারীদের প্রশিক্ষণ ও সালিসের আপিল শুনানির জন্য এডিআর আদালতের বিচারকের এখতিয়ার ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অর্থায়ন: কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় কর রাজস্ব সংগ্রহের অধিকারী হবে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন। জেলা ও উপজেলা পরিষদ যথাযথ নিয়মে ফি, নিজস্ব সম্পত্তির আয় পাবে এবং সরকারি অর্থ সহায়তায় তাদের কার্য নির্বাহ করবে।
স্থানীয় সরকারের বর্তমান অর্থায়ন ব্যবস্থায় অস্বচ্ছতা ও নানা বৈষম্য এবং তদবিরনির্ভর দুর্নীতি আছে বলে মতামত দিয়েছে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। এসব দূর করতে কর রাজস্ব, সরকারি অনুদান বা হস্তান্তর, প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়ন ও উন্নয়ন সহায়তা নীতির আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে কমিশন।
স্থায়ী স্থানীয় সরকার কমিশন: অবিলম্বে পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক মর্যাদাসম্পন্ন স্থায়ী স্থানীয় সরকার কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে। এবিষয়ে কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত সব ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি ও সুপারিশ বাস্তবায়নে এই কমিশন দীর্ঘমেয়াদে সরকারকে আইন, বিধি, নিয়মকানুন ধারাবাহিক ও আইনগতভাবে তৈরিতে সহায়তা করতে পারবে।
স্থানীয় সরকার সার্ভিস কাঠামো: ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ পর্যায়ে দুই ধরনের জনবলের পৃথক দুটি কাঠামো নিয়ে স্থানীয় সরকার সার্ভিস কাঠামো গঠনের সুপারিশ করেছে কমিশন। কমিশন বলেছে, প্রতিটি স্তরে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাদের কার্যক্রম এবং সব সরকারি অর্থসম্পদ প্রেষণকালীন সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকবে। তাদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, পুরষ্কার ও তিরস্কার সংশ্লিষ্ট বিভাগের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হবে। কিন্তু তাদের সমস্ত কার্যাদি স্থানীয় পরিষদের নিদের্শনায় পরিচালিত হবে।
যা বলছেন জনপ্রতিনিধিরা
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে সাবেক বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছে সকাল সন্ধ্যা। তারা সবাই পরোক্ষ ভোট নিয়ে আপত্তি তুলেছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েও অনেক সময় সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সেখানে …।”
তিনি বলেন, “প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কঠিন হবে। এতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ, দলাদলি বেড়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে।”
“মানুষ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত, মানুষ যখন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য উন্মুখ, তখন প্রত্যক্ষ ভোটের বিধান তুলে দেওয়া জটিলতা সৃষ্টি করবে। বরং সংস্কার কমিশনের উচিৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে স্বশাসিত ও অধিক কার্যকর করা যায় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া,” বলেন বিএনপির এই নেতা।
রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও রংপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাও একই মত জানান।
তিনি বলেন, “প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র বা চেয়ারম্যান নির্বাচিত না করার প্রস্তাব বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে জনগণের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে না। সদস্য বা কাউন্সিলরদের কাছে চেয়ারম্যান, মেয়ররা জিম্মি হয়ে পড়বে। বেচা-কেনা প্রথা শুরু হয়ে যাবে।”
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, “এ ধরনের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয়। এতে টাকাওয়ালারা সদস্য বা কাউন্সিলরদের সহজে প্রভাবিত করতে পারবেন।”
সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, “এ ধরনের প্রস্তাব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা হচ্ছে পেছনের দিকে হেঁটে যাওয়ার অবস্থা। আইয়ূব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের আদলে এদেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।”
সিলেটের লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চার বারের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, “সরাসরি নির্বাচন পদ্ধতি তুলে দেওয়া একটি অযৌক্তিক প্রস্তাব। এতে গণতন্ত্রের মূল স্রোত বাধাগ্রস্ত হবে।”
গ্রাম আদালত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি মানুষের আস্থা কমবে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “একেকটি সংস্কার কমিশনের ৪০০-৫০০ পৃষ্ঠার সুপারিশ আমার পক্ষে পড়া কি সম্ভব? না পড়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
চেয়ারম্যান-মেয়র নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটের বিধান তুলে দেওয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কি প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন? না জেনে সব কিছু একাকার করে ভাবা ঠিক নয়।”
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ও লোক প্রশাসনের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ মেয়র-চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোট তুলে দেওয়ার প্রস্তাবে আপত্তি জানান।
তিনি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বাস্তবতা ধারণ করে আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও গতিশীল করার পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সুপারিশে সংস্কার কমিশনের প্রধান লোক প্রশাসনের অধ্যাপক তোফায়েলের মতই প্রাধান্য পেয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক কলিমুল্লাহ।
তিনি বলেন, “সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. তোফায়েল এসব দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছেন। এটি তার পারসোনাল এজেন্ডা। নতুন কিছু নয়। এটা ভারতের মডেল, ওখানে পঞ্চায়েতে এমন ব্যবস্থা আছে।
“ওয়ান ইলেভেনের সময় এভাবে একটা কমিশন হয়েছিল, নতুন করে পদায়িত হয়ে এরা মূলত তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন। অথচ আমরা আশা করছিলাম, তারা প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে যুগোপযোগী সুপারিশ করবেন।”
যা বলছেন কমিশন প্রধান
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ শুরু করেছে। তাই মূল সুপারিশগুলো এখন তারা সরকারের কাছে জমা দিয়েছেন। এখন এগুলো নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী মাসের মধ্যে জমা দেওয়া হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখন দেশে কার্যত কোনও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নেই বলে নতুন একটি স্বচ্ছ ক্যানভাসে নতুন ছবি আঁকা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
অধ্যাপক তোফাযেল বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো ও নির্বাচন ব্যবস্থা অসম পদ্ধতিতে বিন্যস্থ। এগুলোকে একটি সমজাতীয় পদ্ধতিতে পুনঃস্থাপনের সুপারিশ করেছেন তারা।
চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি তুলে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সংসদীয় আদলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কথা ভাবছি। একক ব্যক্তির কর্তৃত্বের বদলে পরিষদ বা কাউন্সিলের ক্ষমতায়নের চিন্তা আমরা করেছি।”
দুটি আইনের অধীন একই তফসিলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করা হলে এতে নির্বাচনী ব্যয় ও সময় কমবে বলে মনে করেন তিনি।
তোফায়েল জানান, সুপারিশে আগামী এপ্রিলের মধ্যে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য দুটি একীভূত স্থানীয় সরকার আইন প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। এরপর জুনের মধ্যে সব সমতল ও পাহাড়ের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ এবং পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করা যেতে পারে। পাশাপাশি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ আইনকেও সংসদীয় কাঠামোতে সংস্থাপিত করে আইন সংশোধন করে জুনের মধ্যেই পাহাড়ের দুটি পরিষদের নির্বাচনও শেষ করা যেতে পারে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “এটা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। আমরা কেবল নির্বাচন পদ্ধতি ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব করেছি। নির্বাচন কখন হবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার।”