Beta
Logo

সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

রোকেয়া পদক পেয়ে গর্বিত ঋতুপর্ণা

রোকেয়া পদক পেয়ে গর্বিত ঋতুপর্ণা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:০৯:০০

নারীশিক্ষা ও অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সরকার সমাজের নানা ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখা নারীদের রোকেয়া পদক প্রদান করেছে। নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর জাতীয় নারী দলের ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমাসহ চার নারীকে দেওয়া হয়েছে বেগম রোকেয়া পদক।

আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত বেগম রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে এই পদক তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

ঋতুপর্ণা চাকমার কাছে এই পুরস্কার বিশেষ। পুরস্কার পেয়ে তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘প্রতিটি পুরস্কারই সম্মান ও গৌরবের। এই বছরই একুশে পদক পেয়েছি। যা অত্যন্ত গৌরবের। সেটা ছিল দলীয়। এবার ব্যক্তিগতভাবে রোকেয়া পদক পেয়েছি, সরকারের এই পদকটি তাই আমার কাছে বিশেষ। সব পুরস্কারই সম্মানের। তবে এটার গুরুত্বটা বেশি। যেহেতু এটা জাতীয় পুরস্কার। আমি গর্বিত।’’

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল পরপর দুবার জিতেছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ান কাপে মূল পর্বেও। এই পথচলায় বড় ভূমিকা রেখেছেন ‎রাঙ্গামাটির মেয়ে ঋতুপর্ণা। এজন্য প্রথমবারের মতো একুশে পদক পেয়েছে জাতীয় নারী ফুটবল দল। এবার ঋতুপর্ণা পেলেন রোকেয়া পদক।

ঋতুপর্ণা চাকমা রাঙামাটির পাহাড়ি পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন। বছর দশেক আগে বাবাকে হারিয়েছেন। ছোট ভাইও আকস্মিক দুর্ঘটনায় পরপারে পাড়ি জমান বছর তিনেক আগে। এত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তার ফুটবল পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়েছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে রোকেয়া পদক পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঋতুপর্ণা, ‘‘প্রতিটি খেলোয়াড় দেশের জন্য লড়েন। সব খেলোয়াড়ই কষ্ট করে উঠে আসেন। এমন একজন ব্যক্তির নামে এমন পদক পাওয়ার পর আমার দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। এই পদকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও সমাজকে আরও কিছু দেওয়ার চেষ্টা করব।’’

গত বছর কিংবদন্তি দাবাড়ু রাণী হামিদ এই পুরস্কার পেয়েছেন। এবার পেলেন ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা। ক্রীড়াঙ্গন থেকে এই পুরস্কার ধারবাহিকভাবে পাওয়ার প্রত্যাশা তার, ‘‘ক্রীড়াবিদরা দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করে। তারা আগামীতে এই পদক পেলে তারাও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবেন। একজন নারী ক্রীড়াবিদকে দেখে সমাজের আরও অনেকেই খেলাধুলায় ও নানা কাজে অনুপ্রাণিত হয়। ক্রীড়াঙ্গনে আমার মতো আরও অনেক নারী ক্রীড়াবিদ রয়েছেন।’’

আরও