Beta
Logo

সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪.৫% প্রবৃদ্ধি হয়েছে

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪.৫% প্রবৃদ্ধি হয়েছে
সকাল সন্ধ্যা প্রতিবেদন
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫২:০০

সাময়িক হিসাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়েছে; ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

 

এর মানে হলো, গত বছরের জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

 

চূড়ান্ত হিসাবে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।

 

চলতি অর্থ বছরের দুই প্রান্তিক (ছয় মাস, জুলাই-সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর-ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রথম প্রান্তিকের (তিন মাস, জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

 

কৃষি, শিল্প ও সেবা- এই তিন খাতের উপাত্ত নিয়ে জিডিপির তথ্য প্রকাশ করা হয়। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই তিন খাতেই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শিল্প খাতে।

 

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে এই হার বেড়ে হয় ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তা আরও বেড়ে ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশে পৌঁছায়।

 

কিন্তু সর্বশেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ এপ্রিল-জুন সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অনেকখানি কমে গিয়েছিল। ওই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছিল ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

 

সেই অবস্থান থেকে গত বছরের ১ জুলঅই থেকে শুরু হওয়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর)) ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে দেশের অর্থনীতি।

 

সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বিবিএস কৃষি, শিল্প ও সেবা—এই তিন খাতের জিডিপির আলাদা তথ্য প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, গত জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে কৃষি খাতে। এই খাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ২ দশমিক ৩০ শতাংশ।

 

এরপর সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করেই মূলত সার্বিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

 

তবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ের (জুলাই–সেপ্টেম্বর) সঙ্গে তুলনায় কৃষি, শিল্প ও সেবা—তিন খাতেই জিডিপির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। কৃষি খাতে গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ নেতিবাচক (মাইনাস, নেগেটিভ) ছিল।

 

আর শিল্প খাতে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ ছাড়া সেবা খাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছিল ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনে অন্তর্বর্তী সরকার।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাব ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

 

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ২২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়।

 

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর)  ৪ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

 

তিনি সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে যদি ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিও অর্জিত হয়, সেটাও আমি ভালো বলে মনে করি। কেননা, একটার পর একটা সমস্যা লেগেই আছে। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। দেশে সবার মধ্যে ভয়-আতঙ্ক বিরাজ করছে। অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে বিনিয়োগ। রেমিটেন্স বাড়লেও রপ্তানি আয় কমছে।”

 

তিনি বলেন, “এরই মধ্যে ট্রাম্পের শুল্ক ধাক্কা লেগেছে দেশে। এই ধাক্কায় রপ্তানি আয় কমছেই; টানা পাঁচ মাস ধরে কমছে এই সূচক। তার নেতিবাচক প্রভাব জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে পড়বে।”

 

“তবে আশার কথা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে, নতুন সরকার আসলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করবে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে; অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। দেশে বিনিয়োগ বাড়বে; অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে।”

 

“আর তেমনটা যদি হয়, তাহলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা যায়। বিশ্ব ব্যাংকও তেমন পূর্বাভাসই দিয়েছে,” বলেন জাহিদ হোসেন।

 

বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আশার কথা শুনিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

 

বিশ্ব ব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

আরও