রপ্তানি আয় কমায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৩:০২:০০
ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল; তার সুফলও মিলেছিল। আমদানি ব্যয় বেশ কমে এসেছিল। তাতে বাণিজ্য ঘাটতিও অনেকটা কমে শেষ হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছর।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও সেই একই পথ অনুসরণ করে চলে। এতে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বাণিজ্য ঘাটতিতে নিম্মমুখী প্রবণতাই দেখা যায়।
কিন্তু রপ্তানি আয়ের বড় ধাক্কায় পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ফের বাড়তে শুরু করেছে। গত বছরের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের সাড়ে ছয় মাস শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) তথ্য প্রকাশ করেছে।
তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে অর্থাৎ জুলাই-নভেম্বর সময়ে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ৭০ লাখ (৯.৪১ বিলিয়ন) ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৯৩ কোটি ৭০ লাখ (৭.৯৩ বিলিয়ন) ডলার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ২ হাজার ৭৫৯ কোটি ৪০ লাখ (২৭.৫৯ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে ২৬ দশমিক শূন্য এক বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৮ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে মাত্র দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৮ দশমিক শূন্য সাত বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।
এ হিসাবেই চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ৯ শতাংশ কমে দুই হাজার ৪৫ কোটি (২০.৪৫ বিলিয়ন) ডলারে নেমেছিল। আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এই ঘাটতি ছিল দুই হাজার ২৪৩ কোটি (২২.৪৩ বিলিয়ন) ডলার।
২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৩৮ কোটি (২৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৯৫ কোটি ৮০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার।
তিন মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতি বেড়ে ৫৭১ কোটি ২০ লাখ (৫.৭১ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ায়। চার মাস (জুলাই-অক্টোবর) শেষে ঘাটতি ছিল ৭৫৭ কোটি (৭.৫৭ বিলিয়ন) ডলার।
রপ্তানি আয় কমছেই
বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের প্রধান উৎস রপ্তানি আয় কমছেই। টানা পাঁচ মাস ধরে কমছে; আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরের পর ডিসেম্বরেও কমেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক।
ট্রাম্প শুল্কের ধাক্কায় রপ্তানি বাণিজ্যে এই বেহাল দশা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নিয়ে অস্থিরতার কারণেই রপ্তানি আয় কমছে। আগামী মাসগুলোতেও এই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। এতে অর্থনীতিতে সংকট বাড়বে বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ষষ্ঠ মাস এবং গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৯৬ কোটি ৮৩ লাখ (৩.৯৭ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যা গত অর্থ বছরের ষষ্ঠ মাস ডিসেম্বরের চেয়ে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কম।
২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ডিসেম্বরে আয়ের অঙ্ক ছিল ৪৬২ কোটি ৭৫ লাখ (৪.৬৩ বিলিয়ন) ডলার।
রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের ধসের কারণেই রপ্তানি বাণিজ্যে এই বেহাল দশা হয়েছে। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই তিন মাসকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে পোশাক রপ্তানির ভরা মৌসুম (পিক আওয়ার) বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই তিন মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে বেশি আয় হয়ে থাকে।
কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাম্প শুল্পের ধাক্কায় ওলোটপালট পরিস্থিতিতে এই হাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা।
রপ্তানি আয়ে বড় উল্লম্ফন নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছর; এই আর্থিক বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৭৭ কোটি (৪.৭৭ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়, যা ছিল গত অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।
কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসেই হোঁচট খায়। ওই মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৯১ কোটি ৫০ লাখ (৩.৯১ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়েছিল। গত বছরের আগস্ট মাসের চেয়ে কমেছিল ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে আয় হয় ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ (৩.৬২ বিলিয়ন) ডলার; কমেছিল ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
চতুর্থ মাস অক্টোবরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয় ৩৮২ কোটি ৩৮ লাখ (৩.৮২ বিলিয়ন) ডলার। যা ছিল গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।
পঞ্চম মাস নভেম্বরে ৩৮৯ কোটি ১৫ লাখ (৩.৮৯ বিলিয়ন) ডলার আয় করে বাংলাদেশ। যা ছিল গত অর্থ বছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কম।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ২ হাজার ৩৯৯ কোটি ৬৯ লাখ (২৩.৯৯ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের একই সময়ে আয়ের অঙ্ক ছিল ২ হাজার ৪৫৩ কোটি ৩৫ লাখ (২৪.৫৩ বিলিয়ন) ডলার।
রপ্তানি আয় কমায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতির গবেষক বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
তিনি সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “এমনিতেই বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির প্রধান দুই সূচক রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় সংকট কেটে যাওয়ার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু টানা পাঁচ মাস রপ্তানি আয় কমায় চিন্তার বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। এভাবে কমতে থাকলে রিজার্ভের উপর আবার চাপ পড়বে।”
“সে কারণে রপ্তানি আয় যাতে না কমে, সেদিকে এখন সরকার ও রপ্তানিকারকদের নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, এভাবে রপ্তানি আয় কমলে রিজার্ভেও কিন্তু টান পড়বে। শুধু রেমিটেন্স দিয়ে রিজার্ভ পতন ঠেকানো যাবে না।”
“বাণিজ্য ঘাটতি যেটা বেড়েছে, সেটা কিন্তু আমদানি বাড়ার কারণে নয়। ৬ শতাংশ আমদানি বৃদ্ধি একেবারেই স্বাভাবিক। বরং আমদানি আরও বাড়লে অর্থনীতির জন্য ভালো হতো। বাণিজ্য ঘাটতি যেটা বাড়ছে, সেটা আসলে রপ্তানি আয় কমার কারণে বাড়ছে,” বলেন জাহিদ হোসেন।
লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ৭০ কোটি ডলার
বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট-বিওপি) ঘাটতি বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এই ঘাটতি ছিল ৪৮ কোটি ১০ লাখ ডলার।
অথচ এই আর্থিক বছরের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে এই সূচকে ৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল; এক মাসে অর্থাৎ অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উদ্বৃত্ত ছিল ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৫৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল। আর অর্থবছর (২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন) শেষ হয়েছিল ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত নিয়ে।
আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ১.২৩ বিলিয়ন ডলার
ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি দেখা দিলেও আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে ঘাটতি নিয়ে শুরু হয় গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর; ওই আর্থিক বছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১৭ কোটি ১০ লাখ (১.১৭ বিলিয়ন) ডলার।
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এই সূচকে ৭৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়। নয় মাস শেষে (জুলাই-মার্চ) সেই উদ্বৃত্ত বেড়ে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ১৩০ কোটি ৭০ লাখ (১.৩১ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ায়।
দশ মাস শেষে (জুলাই-এপ্রিল) তা আরও বেড়ে ১৪৯ কোটি (১.৪৯ বিলিয়ন) ওঠে। তবে ১১ মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-মে সময়ে তা কমে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ ও এডিবির বাজেট সহায়তার ঋণে শেষ পর্যন্ত আর্থিক হিসাবে ৩২০ কোটি (৩.২০ বিলিয়ন) ডলার উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হয়েছিল।
তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর ঘাটতি দিয়ে শুরু হয়। প্রথম মাস জুলাইয়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে এই ঘাটতি কমে ৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়।
তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ১৬৬ কোটি (১.৬৬ বিলিয়ন) ডলার। চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) এই উদ্বৃত্ত ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২১৭ কোটি ২০ লাখ (২.১৭ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ায়
পাঁচ মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-নভেম্বর সময়ে অবশ্য উদ্বৃত্ত ১২৩ কোটি ৩০ লাখ (১.২৩ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের একই সময়ে ১০১ কোটি (১.০১ বিলিয়ন) ডলারের ঘাটতি ছিল।
সামগ্রিক লেনদেনেও উদ্বৃত্ত ৭৭ কোটি ডলার
সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালান্স) ৩২৯ কোটি (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। ৪৩০ কোটি (৪.৩০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থ বছর শেষ হয়েছিল।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরও ঘাটতি দিয়ে শুরু হয়। প্রথম মাস জুলাইয়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে দুই মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে সেই ঘাটতি কমে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারে নামে।
তিন মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে ৮৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত হয়। চার মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে সেই উদ্বৃত্ত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ১০৮ কোটি ৮০ লাখ (১.০৯ বিলিয়ন) ডলারে ওঠে।
সবশেষ পাঁচ মাস শেষে (জুলাই-নভেম্বর) উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
অথচ গত অর্থ বছরের এই পাঁচ মাসে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৫৩ কোটি ৮০ লাখ (২.৫৩ বিলিয়ন) ডলার।