প্রেসিডেন্ট হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পুরোদন্তুর ব্যবসায়ী, তার ছাপ আবার রাখলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড নামের সোনার হরিণকে এবার তিনি বিক্রির পাল্লায় তুলছেন।
ট্রাম্প ধনী বিদেশিদের ৫০ লাখ ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ কোটি টাকা) বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেছেন, নাগরিকত্ব পেতে বিদেশিদের কাছে একটি বিশেষ কার্ড বিক্রি করা হবে, যার নাম হবে গোল্ড কার্ড। এই কার্ড তাদের গ্রিন কার্ডের সমান অধিকার দেবে।
ধনী বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার এই উদ্যোগে ১০ লাখ গোল্ড কার্ড বিক্রির চিন্তা-ভাবনা ট্রাম্প করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনে করছেন, অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়া হলে জাতীয় ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে চালু থাকা ইবি-৫ অভিবাসী বিনিয়োগকারী ভিসা কর্মসূচি বাতিল করে এর পরিবর্তে গোল্ড কার্ড চালু করা হবে।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেতে বা স্থায়ী বাসিন্দা হতে বিদেশিরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে, যা দেশটিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
অর্থাৎ যদি কোনও বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা-বাণিজ্যে অর্থ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে তাকে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচি এখন বাতিল করে গোল্ড কার্ড কমসূচি হাতে নিতে চান ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা গোল্ড কার্ড বিক্রি করব। এই কার্ডের মূল্য হবে ৫০ লাখ ডলারের মতো।”
ট্রাম্প বলেন, “গোল্ড কার্ড বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেবে। একই সঙ্গে এটি আমেরিকার নাগরিক হওয়ার পথও প্রশস্ত করবে। কার্ডটি কিনে সম্পদশালী ব্যক্তিরা আমাদের দেশে থাকতে পারবেন।”
এবিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জানানো হবে বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়ার নাগরিকরা এই গোল্ড কার্ড পাবেন কি না- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, রাশিয়ার প্রভাবশালী ধনী ব্যক্তিরাও এই কার্ড পেতে আবেদন করতে পারবেন। তারাও যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ পাবেন।”
“আমি কয়েকজন রুশ প্রভাবশালীকে চিনি, যারা বেশ ভালো মানুষ,” যোগ করেন তিনি।
ইবি-৫ ভিসা কর্মসূচি কী
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসী পরিষেবা বিভাগের (ইউএসসিআইএস) ওয়েবসাইটে বলা আছে, ১৯৯০ সালে ইবি-৫ অভিবাসী বিনিয়োগকারী ভিসা কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছিল দেশটির কংগ্রেস। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙা করাই এর উদ্দেশ্য।
এই কর্মসূচির আওতায় বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা অর্থে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে তাদের গ্রিন কার্ড ও নাগরিক হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
বিনিয়োগকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রথাটি অবশ্য বিশ্বে নতুন নয়। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে বিদেশি সম্পদশালীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও রয়েছে যুক্তরাজ্য, স্পেন, গ্রিস, মাল্টা, ইতালি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালে ৮ হাজার বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ ভিসা নিয়েছেন।
তবে ইবি-৫ ভিসা নিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি ২০২১ সালে কংগ্রেসের এক তদন্তে উঠে এসেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটরিক এই কর্মসূচির সমালোচনা করছেন।
তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “এই কর্মসূচি অর্থহীন এবং জালিয়াতিতে ভরা। এর মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে গ্রিন কার্ড পাওয়া যেত।
“তাই প্রেসিডেন্ট মনে করছেন, এই হাস্যকর কর্মসূচি রাখার চেয়ে এটি বাতিল করাই শ্রেয়। এর পরিবর্তে গোল্ড কার্ড প্রচলন করা হবে।”