খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে জুবাইদা রহমান
শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৭:৫৮:০০
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন তার বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
প্রথম আলো জানিয়েছে, আজ শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটের দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান জুবাইদা রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
জুবাইদা রহমান হাসপাতালের ইমার্জেন্সি লিফট দিয়ে খালেদা জিয়া যেখানে চিকিৎসাধীন, সেখানে যান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জুবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি লন্ডন থেকে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
চিকিৎসার জন্য শাশুড়িকে লন্ডনে নিতে জুবাইদা রহমান ঢাকায় এসেছেন। কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কারিগরি ত্রুটির কারণে না আসায় খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে গেছে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে জানানো হয়, কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এখনও না পৌঁছানোয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে।

পোস্টে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শুক্রবার আসছে না। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে এটি আগামীকাল শনিবার পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, “ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা যদি যাত্রার জন্য উপযুক্ত থাকে এবং মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিলে ইনশা আল্লাহ ৭ তারিখ (রোববার) তিনি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবেন।”
১৩ দিন ধরে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটা কিছুটা উন্নতির দিকে। হৃদ্যন্ত্রে জটিলতাও কিছুটা কমেছে। তবে অন্য সমস্যাগুলো অনেকটাই অপরিবর্তিত।
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত জানুয়ারি মাসে লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে প্রথমে হাসপাতালে, পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা নেন। প্রায় চার মাস পর গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেও তিনি বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় তার দল বিএনপির উদ্যোগে আজ শুক্রবার সারা দেশের মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজের পর দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের আশু রোগমুক্তি কামনা করে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মের রীতি-আচার অনুযায়ী প্রার্থনারও আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।