Beta
Logo

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে ঋণ চান পোশাকশিল্প মালিকরা

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে ঋণ চান পোশাকশিল্প মালিকরা
সকাল সন্ধ্যা প্রতিবেদন
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:২৫:০০

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে সরকারের কাছে টাকা চেয়েছেন দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা। তারা দুই মাসের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন।

 

রাজধানীর মতিঝিলে মঙ্গলবার দুপুরে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান ও সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী। বৈঠকে ঈদুল ফিতরের আগে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মজুরিসহায়তা বাবদ দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থের ঋণসুবিধা দিতে গভর্নরকে চিঠি দেওয়া হয়।

 

দুই মাসের জন্য কত টাকা ঋণ প্রয়োজন—জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে বেতন-ভাতা বাবদ মাসে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে ১৩-১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

 

চিঠিতে গত সাত মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও কেজিপ্রতি তৈরি পোশাক দাম কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, রপ্তানি কমে আসার সঙ্গে নতুন ক্রয়াদেশেও শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে। এমনকি ক্রয়াদেশ পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

 

“ঈদের আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বোনাস পরিশোধ ছাড়াও বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ও অন্যান্য খরচ পরিশোধ করতে হয়। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর অর্থের প্রয়োজনে তারল্যসংকট দেখা দেবে। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এ সংকট অতিক্রম করা উৎপাদকদের একার পক্ষে সম্ভব নয়।”

 

ইনামুল হক খানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিরত কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ—দুই মাসে কারখানা খোলা থাকবে ৩৫ দিন। অথচ মার্চ মাসে নিয়মিত মজুরির পাশাপাশি ঈদ বোনাস ও মার্চ মাসের ৫০ শতাংশ মজুরি পরিশোধ করতে হবে।

 

এ পরিস্থিতিতে চলমান তারল্যসংকটের ফলে মজুরি পরিশোধে ব্যর্থতা ও শ্রম অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ঈদের আগে মজুরিসহায়তা বাবদ দুই মাসের সমপরিমাণ অর্থ তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ দিতে অনুরোধ করেন তিনি।

 

বিজিএমইএর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে সংগঠনের নেতারা মজুরির জন্য সহজ শর্তে ঋণের পাশাপাশি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের বকেয়া ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করার অনুরোধ করেন।

 

এ ছাড়া বিজিএমইএর নেতারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছাড় করার অনুরোধ করেন।

 

পাশাপাশি প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) আওতায় আবার ঋণসহায়তা চালু ও সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমের তহবিল ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পাশাপাশি তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ করা হয় গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে।

 

বিজিএমইএর নেতারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে বলেন, সময়মতো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করা শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার স্বার্থে খুবই জরুরি।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গভর্নর বিজিএমইএর নেতাদের বক্তব্য শোনার পর তৈরি পোশাকশিল্পের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তার আশ্বাস দেন।

আরও