Beta
Logo

সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চীনে উচ্চশিক্ষা : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ‘পাইওনিয়ার’ শেখ কোরবান আলী

চীনে উচ্চশিক্ষা : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ‘পাইওনিয়ার’ শেখ কোরবান আলী
আসিফুল হাসনাত সিদ্দিকী
শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫৮:০০

বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথকে একেবারেই সহজ করে দিয়েছেন শেখ কোরবান আলী। তার প্রতিষ্ঠিত ‘মালিশা এডু’ স্কলারশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনের বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

 

চীনের ২৫০টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মালিশা এডুর চুক্তি আছে; বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করছে মালিশা এডু। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি অনেক সহজ হয়েছে। আর গত ১৩ বছরে ‘মালিশা এডু’-এর মাধ্যমে ২৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন, বা বর্তমানে সেখানে অধ্যয়ন করছেন।

 

এই শিক্ষার্থীরা চীনের আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি নিয়ে দেশে ও বিদেশে দাপটের সঙ্গে চাকরি করছেন; তাদের অনেকেই সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শুধু তাই ই নয় মালিশা এডু এখন বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের ১৭টি দেশে অফিস খুলে নিজেদের কার্যক্রর পরিচালনা করছে।

 

পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী দেশ চীন এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। শেখ কোরবান আলী নিজস্ব উদ্ভাবনী এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্নকে হাতের নাগালে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে একজন অগ্রপথিক বা ‘পাইওনিয়ার’ হিসেবে কাজ করছেন। মেধাবি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ নিশ্চিত করে একেবারে বিনামূল্যে এবং উল্টো স্কলারশিপ মানি নিয়ে কীভাবে পড়ানো যায়- সেই পথ দেখান তিনি।

 

ঢাকা থেকে কীভাবে চীন গেলেন

 

শেখ কোরবান আলীর জন্ম কৃষকের ঘরে, বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের একটি প্রান্তিক গ্রামে। গ্রামের নিজামকান্দি স্কুলে এসএসসি পড়েছেন আর এইচএসসি পড়েছেন ঢাকা বিএএফ শাহীন কলেজে। তার পড়ার ইচ্ছে ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে; উদ্দেশ্য সেখান থেকে পড়ে ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি জমাবেন। কিন্তু ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে উচ্চ টিউশন ফিতে পড়ার সেই আর্থিক সামর্থ্য তার ছিল না।

 

তার বড় ভাই পরামর্শ দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শতভাগ স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের। প্রস্তুতি নিয়ে ইন্টারভিউ দিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এ চান্স পেয়ে যান কোরবান আলী।

 

টিউশন ফি ছাড়াই স্কলারশিপ নিয়ে পড়া শুরু করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। যেহেতু ইউরোপে যাবেন তাই নিজেকে প্রস্তুত করতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় ফরাসি ভাষা শেখা শুরু করেন। তখন ব্র্যাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্ত্রীর নজরে পড়েন তিনি। ফরাসি ভাষা শুরু করলেও তার পরামর্শে চীনা ভাষা শেখা শুরু করেন। তখন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে প্রতি বছর তিনজন মেধাবী শিক্ষার্থীর যোগ্যতার ভিত্তিতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল। মূলত সেই সুযোগ কাজে লাগাতেই কোরবান আলীকে চীনা ভাষা শেখার পরামর্শ দেন ফজলে হাসান আবেদের স্ত্রী।

 

চীনা ভাষা শিখে গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২০১০ সালেই চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ‘সাউথওয়েস্ট জিয়াওতং ইউনিভার্সিটি’তে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যান। এটি চীনে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং গবেষণাভিত্তিক চীনা বিশ্ববিদ্যালয়। চাকচিক্যের শহরে এসে প্রথম বছরে পড়ালেখা রপ্ত করতে তার বেশ বেগ পেতে হয়। পরে অবশ্য তিনি দুর্দান্ত রেজাল্ট করে ‘কম্পিউটার এন্ড ইনফরমেশন সিকিউরিটি’ বিষয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। পরে সেই ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু মাত্র ৫০% স্কলারশিপ পাওয়ায় সেই ডিগ্রি আর কমপ্লিট করেননি।

 

চীনে স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি কীভাবে শুরু

 

মাস্টার্স কোর্স চলার সময় কোরবান আলী চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্নভাবে সেবা দিতে শুরু করেন। তখনও সেই সেবা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়নি। মাস্টার্সে নিজের পড়ালেখার অভিজ্ঞতা দেখে-বুঝে শেখ কোরবান আলী তার আপন ভাগ্নে মারুফ মোল্লাকে চীন নিয়ে যান। এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি করান চীনের ‘সান ইয়েত-সেন অফ মেডিকেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি’তে। মারুফ মোল্লা থাকেন গোয়াংঝুতে আর কোরবান আলী থাকেন সিচুয়ানে। চীনের দুই অঞ্চল থেকে শুরু করেন কনসালটেন্সি। তখনও বাংলাদেশে আগ্রহী শিক্ষার্থী অতটা আসেনি। মাস্টার্স শেষ করে চীনে চাকরির আবেদন করে রেখেছিলেন। খুঁজছিলেন ব্যবসাও।

 

২০১২ সালে বাংলাদেশে ফেরেন চাকরির খোঁজে। কিন্তু চাকরি তার মন মতো হচ্ছিল না। এরইমধ্যে চীনের গোয়াংঝুতে চাকরির অফার আসলে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে চীন গিয়ে চাকরিতে যোগ দেন। দেড় বছর সেই প্রতিষ্ঠানের চাকরির পাশাপাশি মারুফ মোল্লাসহ গোয়াংঝুতে বসে স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি শুরু করেন। বেশ ভালো সাড়া পেলে ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেন ‘মালিশা এডু’ নামের কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান। কোরবান আলী, মারুফ মোল্লা এবং নিজ স্ত্রীর নামে চালু করেন মালিশা এডু।

 

থার্ড বেল্ট অ্যান্ড রোড চাইনিজ ইউনিভার্সিটি ফরেইন পার্টনার কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়, চীনের হাসপাতালগুলোর প্রতিনিধি, বাংলাদেশসহ এশিয়া আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং কন্সুল জেনারেল, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিকেএসপি, বেশ কিছু প্রাইভেট এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর কোরবান আলীর আইডিয়া বাস্তবায়নে নেমে পড়েন মারুফ মোল্লা। মারুফ মোল্লা খুব ভালো চাইনিজ বলতে পারতেন, ফলে চাইনিজ ইউনিভার্সিটির অফিসিয়ালদের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সহজ প্রক্রিয়ায় চীনের ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পান।

 

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ননা করতে গিয়ে শেখ কোরবান আলী বলেন, “২০১৭ সালে প্রথমবার চীনের সিচুয়ান ইউনিভার্সিটির সাথে মালিশা এডুর চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চার বছর ধরে চীনাদের সাথে লেগে থেকে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করি। চুক্তির মাধ্যমেই চীনাদের সাথে আমাদের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশে গিয়ে আমরা সেই খবর প্রচার করি। আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সেই অর্জনে আস্থা রাখলে বিজনেস ক্লিক করতে শুরু করে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত চীনের ২৫০ ইউনিভার্সিটির সাথে আমাদের চুক্তি হয়েছে। সেই সব ইউনিভার্সিটির হয়ে আমরা বাংলাদেশ এবং বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভভূক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করছি। গত ১৩ বছরে ২৭ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে চীনে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছি।”

 

তিনি বলেন, মালিশা এডুর কার্যক্রম বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটভুক্ত ১৫০টি দেশে পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছি। পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, লাওস, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, নেপালসহ মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকার ১৭টি দেশে আমরা ইতোমধ্যে শাখা অফিস খুলে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছি। যার পুরােটাই দেখছে মালিশা এডুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মারুফ মোল্লা।

 

করোনার ধকল কাটাতে চালু ইজি লিংক

 

মারুফ মোল্লা যখন এডুকেশন কনসালটেন্সিতে পুরোদমে মনযোগ দিচ্ছিলেন তখন শেখ কোরবান আলী নজর দেন ট্রেডিং ব্যবসায়। ২০১৫ সালে হংকংয়ে তিনি শুরু করেন ট্রেডিং ব্যবসা। তখন গোয়াংঝুর চেয়ে ট্রেডিং ব্যবসা হংকংয়ের মাধ্যমে করাটা সহজ ছিল। ব্যবসার পরিধি বাড়লে কোরবান আলী ২০১৭ সালে একই ব্যবসা শুরু করেন গোয়াংঝু থেকে। বাংলাদেশের অনেকগুলো বড় শিল্পগ্রুপের আমদানি পণ্যের সরবরাহকারী ছিলেন শেখ কোরবান আলী। তখন তিনি একচেটিয়া ব্যবসা শুরু করেন। মালিশা এডু এবং ট্রেডিং ব্যবসা যখন জমজমাট হচ্ছিল, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করছিল তখন মহাবিপর্যয় হিসেবে আসে করোনা মহামারী। অন্য সবার মতো সবকিছু থমকে যায়।

 

২০১৫ সালে চায়নিজ মেয়ে বিয়ে করে নিজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার শক্ত ভিত গড়েন শেখ কোরবান আলী। কিন্তু করোনা মহামারীতে নেমে আসে বিপর্যয়। করোনার আগে ব্যবসার পরিধি বাড়ায় তার অফিস ছিল ২৭৬ বর্গমিটার। প্রতিমাসে ২৯ হাজার আরএমবির ভাড়া দিতে হতো। বিপর্যয়ের পর সেই বিশাল অফিস ছেড়ে মাত্র ৭২ বর্গমিটারের ছোট্ট অফিস নেন তিনি। করোনার সময়ই দিশেহারা হয়ে যান।

 

করোনার ধ্বংসস্তুপের মাঝে কীভাবে উঠে দাঁড়াবেন- খুঁজতে থাকেন নতুন আইডিয়া। কীভাবে এই ধাক্কা সামলে সামনে আগানো যায়। অনেক চিন্তার পর তার আইডিয়া আসে চীনে বিদেশিদের নতুন কম্পানি খোলা, ওয়ার্ক পারমিট দেয়া, রেসিডেন্স ভিসা, ট্যাক্স সহায়তা নিশ্চিত করে একটি সেবা চালু করা যায়।

 

শেখ কোরবান আলী। ফাইল ছবি

 

জানতে চাইলে শেখ কোরবান আলী বললেন, “আগে কম্পানি খুলতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা এবং চীনের অফিসের কার্যক্রমকে কাছ থেকে দেখা এবং নিজের রেসিডেন্স ভিসা প্রাপ্তি সবকিছুই আমার জানা ছিল। সেইসব সেবাকে একটি প্লাটফরম থেকে নিশ্চিত করে ‘ইজি লিংক ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস কনসালটেন্সি কম্পানি লিমিটেড’ খুলি। এই সার্ভিস চালুর মূল টার্গেট ছিল আগ্রহী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা, যারা চীনে নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে চান, তাদেরকে বিজনেসে সফল হতে সহায়তা করা।”

 

তিনি বলেন, “করোনা মহামারীর পর ধকল সামলে উঠতে এই বিজনেস আমাকে দারুণভাবে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশি ছাড়াও বিপুল বিদেশি ব্যবসায়ী এই সার্ভিস নিতে শুরু করেন। আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস তাদের ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। আর এই বিজনেসটা ক্লিক করতে শুরু করে।”

 

চীনে প্রথম শুরু মেডিকেল ট্যুরিজম

 

২০২৪ সালে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন সরকার বাংলাদেশি রোগিদের চীনের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পুরো কার্যক্রমের নেপথ্যে আমরা ‘বেল্ট এন্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টার’ কাজ শুরু করে। এটি মালিশা গ্রুপের আরেকটি নতুন প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য কুনমিংয়ে ডেডিকেটেড হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়, ভাষাগত জটিলতা কাটাতে রাখা হয় ইন্টারপ্রেটার বা দোভাষী। রোগীসহ ৩১ জনের টিম ৩১ ডিসেম্বর চীন পৌঁছে। এর মাধ্যমে চীনে প্রথম মেডিকেল ট্যুরিজম চালু হয়।

 

শেখ কোরবান আলী বলেন, “সেটিই প্রথম বড় পরিসরে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনা মেডিকেল ট্যুরিজম শুরু। বাংলাদেশি রোগীদের চীনে চিকিৎসার নতুন যে সিস্টেম আমরাই ডেভলপ করি; সেটি এখনও বহাল আছে। চীনা দূতাবাস এবং চীন সরকার আমাদের কাজের ব্যাপক প্রশংসা করে। ফলে চীন সরকার আমাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা আরও বেশি রাখতে শুরু করে। এখন কুনমিংয়ের পাশাপাশি গোয়াংঝু থেকে শুরু করে অনেক চীনের অনেক প্রভিন্সে বাংলাদেশি রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। মেডিকেল ট্যুরিজমের ভিসা প্রক্রিয়া অনেক সহজ-নিরবচ্ছিন্ন হয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এখন চীন আসছেন।”

 

স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি, ট্রেডিং, ইজি লিংক দিয়ে ব্যবসা করে মালিশা এখন গ্রুপে পরিণত হয়েছে। তাদের গ্রুপে এখন যোগ হয়েছে ফ্রি এয়ারপোর্ট সার্ভিস এবং রেস্টুরেন্ট ব্যবসা।

 

গোয়াংঝুর প্রাণকেন্দ্র সানিয়ালিতে ‘আল বারাকা রেস্টুরেন্ট’ এবং ‘আল বারাকা হল’ নামে তাদের নতুন ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। গোয়াংঝু বাইয়ুন এয়ারপোর্ট থেকে সানিয়ালিতে আসতে বাংলাদেশিদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস চালু করেছে। এই সার্ভিস একদিকে বাংলাদেশি রোগীদের দ্রুত সহজে পৌঁছাতে সহায়তা করছে। আবার শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে শহরে পৌঁছার সুযোগ দিচ্ছে। সেটি এখন বাংলাদেশি পর্যটক শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

 

 

কোরবান আলীর স্বপ্ন

 

শেখ কোরবান আলীর জন্ম বাংলাদেশে জন্ম হলেও বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তি চীনকে নিজের দেশ হিসেবে মনে ধারণ করেন। বাংলাদেশ-চীন দুদেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা প্রসারের পাশাপাশি নিজ সংসার গেড়েছেন কোরবান আলী। সেই সংসারে তাদের তিন মেয়ে দুদেশের হৃদ্যতার সর্ম্পকের প্রতীক হয়েই থাকল। তাই চীনের প্রতি টান যেন তার একটু বেশি। তাই চীনকে ঘিরে নতুন নতুন স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেগুলো বাস্তবায়নে চীন সরকারও তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

 

শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসায় সফলতার পর তাদের এখন বড় লক্ষ্য চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি আর্ন্তজাতিক মানের হাসপাতাল এবং একটি আর্ন্তজাতিক মানের বিশেষায়িত ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা।

 

শেখ কোরবান আলী বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো অংশীদার চীন। ভবিষ্যতে এই অংশীদারত্ব আরও বাড়বে। সেই বিষয় মাথায় রেখেই আমরা দুটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, বাংলাদেশিদের আর্ন্তজাতিক মানের শিক্ষা-চিকিৎসা নিশ্চিতে জন্য আমরা বড় অবদান রেখে যেতে পারব।”

আরও