Beta
Logo

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

১০ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যংক

১০ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যংক
আবদুর রহিম হারমাছি
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:১৮:০০

দাম ধরে রাখতে ডলার কিনেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভোটের ছুটির আগের দিন মঙ্গলবারও (১০ ফেব্রুয়ারি) নিলামের মাধ্যমে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ১১ ব্যাংকের কাছ থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। আগের দিন সোমবারও (৯ ফেব্রুয়ারি) একই দরে ১৯ ব্যাংকের কাছ থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল।

 

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ১৬ ব্যাংকের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল।

 

তার দুই দিন আগে ৩ ফেব্রুয়ারি কেনা হয়েছিল ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার; আগের দিন ২ ফেব্রুয়ারি কেনা হয় ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।

 

এ নিয়ে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ দিনে পাঁচ দফায় ৯৬ কোটি ৬০ লাখ (প্রায় ১ বিলিয়ন) ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের মাস জানুয়ারিতে ছয় দফায় ৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল। আর গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে কেনা হয়েছিল ১ দশমিক শূন্য নয় বিলিয়ন ডলার।

 

সব মিলয়ে গত সাত মাসে (গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে এই বছরের ১০ফেব্রুয়ারি) ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার পরিমাণ ৪৯০ কোটি (প্রায় ৫ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

আর এই ডলার কেনা এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উপর ভর করে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় অবস্থান করছে। এই সূচক নিয়ে আর কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই।

 

গত ৮ জানুয়ারি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানি বিল পরিশোধের পরও বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে। আর গ্রস বা মোট হিসাবে ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৯ জানুয়ারি পাঁচ ব্যাংকের কাছ থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল। এর আগে ২০ জানুয়ারি দুই ব্যাংকের কাছ থেকে কেনা হয় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল।

 

১২ জানুয়ারি ১০ ব্যাংকের কাছ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ৮ জানুয়ারি ১৫ ব্যাংকের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তার দুই দিন আগে ৬ জানুয়ারি ১৪ ব্যাংকের কাছ থেকে কেনা হয় ২২ কোটি ২৫ লাখ ডলার।

 

২০২৬ সালের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি কেনা হয়েছিল ১৮ কাটি ৭৫ লাখ ডলার।

 

এর আগে ৩০ ডিসেম্বর ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার কেনা হয়। ২৮ ডিসেম্বর কেনা হয় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২১ ডিসেম্বর কেনা হয় ৬ কোটি ডলার। ১৭ ডিসেম্বর কেনা হয় ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ১৫ ডিসেম্বর কেনা হয়েছিল ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

 

১১ ডিসেম্বর ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল। ৯ ডিসেম্বর কেনা হয় ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার। ৩০ নভেম্বর কিনেছিল ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

 

এর আগে ডলারের দর ‘স্থিতিশীল’ থাকায় দেড় মাস অবশ্য কোনো ডলার কেনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে ডলারের দর আবার কমতে শুরু করায় ফের ডলার কেনা শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

আর এই ডলার কেনার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সাত মাসে ব্যাংকগুলোকে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা) দিয়েছে। এতে ডলারের দর স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়েছে।

 

তবে ডলার কিনে বাজারে টাকা সরবরাহ করায় মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা প্রভাব পড়ছে বলে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন।

 

মুদ্রাবাজারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পর ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে উল্লম্ফনে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থাৎ ডলারের দর যাতে কমে না যায় সেজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

 

তিনি সকাল সন্ধ্যাকেকে বলেন, বাজার স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে। মঙ্গলবারও ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ১১ ব্যাংকের কাছ থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে।

 

আগের মতোই বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাধ্যমে মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে এই ডলার কেনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

আরিফ খান বলেন, “ডলারের দর বেড়ে যাওয়াও অর্থনীতির জন্য ভালো নয়, আবার কমে যাওয়াও ভালো নয়। তাই এ বাজারকে ‘সুস্থির’ রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে ডলার কিনছে। তাতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য প্রবাহ বাড়ছে।”

 

বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দিকে হঠাৎ করেই ডলারের দর কমতে শুরু করে; ১২১ টাকায় নেমে আসে।

 

ডলারের দাম কমে গেলে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সে কারণেই দাম ধরে রাখতে নিলামে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

১৩ জুলাই প্রথম ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যংক। ওইদিন ১৮টি ব্যাংক থেকে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়। ১৫ জুলাই একই দরে ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, ২৩ জুলাই ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ১ কোটি ডলার কেনা হয়।

 

এর পর ৭ আগস্ট ১২১ টাকা ৪৭ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১০ আগস্ট ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, ১৪ আগস্ট ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, ২৮ আগস্ট ১২১ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৭০ পয়সা দরে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

২ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, ৪ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, ৯ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১৫ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, গত ২২ সেপ্টেম্বর ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার কেনা হয়।

 

৬ অক্টোবর ১২১ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৮০ পয়সা দরে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার কেনা হয়। ৯ অক্টোবর কেনা হয় ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ১৩ অক্টোবর ৬ ব্যাংকের কাছ থেকে আরও ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

এর পর দেড় মাস অবশ্য কোনো ডলার কেনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে ডলারের দর আবার কমতে শুরু করায় ফের ডলার কেনা শুরু হয়। ৩০ নভেম্বর ১২২ টাকা ২৫ পয়সা দরে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার কেনা হয়।

 

গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে কয়েক দফায় ১ দশমিক শূন্য নয় বিলিয়ন ডলার কেনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরেও ডলার কেনা অব্যাহত রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক; প্রথম মাস জানুয়ারিতে ছয় দফায় কেনা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি ডলার।

 

দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারির ১০ দিনেই পাঁচ দফায় কেনা হলো প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। আর এভাবেই সব মিলিয়ে ডলার কেনার অঙ্ক প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারে পৗঁছেছে।

 

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়; ৮৫ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে ১২৫ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

 

ডলারের বাজারের অস্থিরতায় দেশে মুল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সে সময় রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করে দিয়েছিল।

 

টাকার অবমূল্যায়ন ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে আমদানি বিল পরিশোধে সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে ডলার বিক্রি করেছিল, সেখানে এখন চলছে উল্টো প্রবাহ।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত তিন বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ২৫ বিলিয়নের বেশি ডলার বিক্রি করে, যা মূলত জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি বিল মেটাতে ব্যবহার হয়েছে।

 

রেমিটেন্সে উল্লম্ফন অব্যাহত

 

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেও জোয়ার বয়ে গেছে এই সূচকে। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের পর এই মাসেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের বেশি দেশে পাঠিয়েছেন।

 

বাংলাদেশে এই প্রথম পর পর দুই মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসলো দেশে। এর আগেও এক মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি প্রথম নয় দিনে (১ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি) ১১৩ কোটি ৫০ লাখ (১.১৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে এসেছে।

 

এই অঙ্ক গত বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ের চেয়ে ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির এই নয় দিনে ৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার এসেছিল দেশে। আর পুরো মাসে এসেছিল ২৫২ কোটি ২৭ লাখ (২.৫২ বিলিয়ন) ডলার।

 

সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাত মাস নয় দিনে ২ হাজার ৫৬ কোটি ৫০ লাখ (২০.৫৬ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৬৮১ কোটি ৮০ লাখ (১৬.৮২ বিলিয়ন) ডলার।

 

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের সাত মাস নয় দিনে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি) গত অর্থবছরের একই সময়ের (২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি) চেয়ে ২২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স এসেছে দেশে।

 

১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটতেই রোজা শুরু হবে। প্রতিবারের মতো এবারও রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে বেশি রেমিটেন্স পাঠাবেন প্রবাসীরা। তখন রেমিটেন্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

রিজার্ভ বাড়ছেই

 

ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনায় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উল্লম্ফনে রিজার্ভও বাড়ছে।

 

রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। গত কয়েক মাস ধরে রপ্তানি আয় টানা কমলেও রেমিটেন্সের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে।

 

গত ৭ জানুয়ারি রিজার্ভ বেড়ে বিপিএম-৬ হিসাবে ২৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। আর গ্রস বা মোট হিসাবে দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।

 

৮ জানুয়ারি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের ১৫৩ কোটি (১.৫৩ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। গ্রস হিসাবে নামে ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে।

 

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ফের ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। গত ২২ জানুয়ারি বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক শূন্য ছয় বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩২ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার।

 

গত ২৯ জানুয়ারি বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২৯ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস হিসাবে দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারে।

 

গত কয়েক দিনে আরও বেড়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিন শেষে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩৪ দশমিক শূন্য ছয় বিলিয়ন ডলার।

 

১০ ফেব্রুয়ারি ১১ ব্যাংকের বাছ থেকে যে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে, তা যোগ হলে রিজার্ভ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

 

এক বছর আগে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ২৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে।

 

অর্থনীতির সামর্থ্য প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চলছে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় থেকেই। অভ্যুত্থানের পর গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও উদ্বেগ কাটছিল না।

 

তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় এবং বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তার ঋণে রিজার্ভ স্বস্তির জায়গায় এসেছে।

 

বর্তমান রিজার্ভ পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান সোমবার জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বলেন, “বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আইএমএফের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে এবং সংস্থাটির সব শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।”

 

৫ মাসের আমদানি ব্যয় মিটবে

 

বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।

 

সবশেষ গত নভেম্বর মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

 

সে হিসাবে বর্তমানের ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

 

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।

 

আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে। তার আগে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

 

আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তার মূল্য প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়।

 

আকুর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এর মধ্যে ভারত পরিশোধ করা অর্থের তুলনায় অন্য দেশগুলো থেকে বেশি পরিমাণে ডলার আয় করে। অন্যদিকে বেশিরভাগ দেশকেই আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় হিসাবে অতিরিক্ত ডলার খরচ করতে হয়।

 

ব্যাংকগুলো আমদানির খরচ নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেয়, যা রিজার্ভে যোগ হয়। ওই দায় দুই মাস পরপর রিজার্ভ থেকে পরিশোধ করে দেওয়া হয়।

 

এক দশক আগে রিজার্ভের বাড়-বাড়ন্ত নিয়ে মধুর সমস্যায় ছিল বাংলাদেশ। রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এই অর্থ অলস বসিয়ে না রেখে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা ছিল চিন্তার বিষয়।

 

কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে যায়। তাতে রিজার্ভ কমতে থাকায় দেখা দেয় উদ্বেগ।

আরও