Beta
Logo

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

টানা পতনের পর বড় উত্থান পুঁজিবাজারে

টানা পতনের পর বড় উত্থান পুঁজিবাজারে
আবদুর রহিম হারমাছি
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২২:০০

টানা পতনের পর বড় উত্থানে ফিরেছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। দুই বাজারেই মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেন বেড়েছে; বেড়েছে লেনদেন হওয়া প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর।

 

প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১০০ পয়েন্ট। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৫০ পয়েন্টের মতো।

 

আর এতে পতনের ধাক্কা সামলে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র, তথ্য প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ, মিউচুয়াল ফান্ডসহ সবকটি খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে।

 

প্রধান বাজার ডিএসইতে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে দুই ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান। দাম বড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ৩৪৭ প্রতিষ্ঠান। আর এর ফলেই প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ১০০ পয়েন্ট। সেইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

 

অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব পড়েছিল দেশের পুঁজিাবাজারে। নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবস গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (গত সপ্তাহের প্রথম দিন, রবিবার) দেশের দুই বাজরেই মূল্য সূচকের বড় উত্থান হয়। প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বাড়ে ২০০ পয়েন্টের বেশি; অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছিল প্রায় ৫০০ পয়েন্ট।

 

লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছিল দুই বাজারে। বেড়েছিল বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর। আর তাতে দীর্ঘদিন পর ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। নতুন সরকার বাজারের দিকে নজর দেবে, বাজার ভালো হবে, এতোদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন—এমনটাই আশা করছিলেন সবাই।

 

কিন্তু পরের দিনই (১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার) হোঁচট খায়; দুই বাজারেই মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমে। কমে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর। সেই নেতিবাচক ধারায় নতুন সরকার গঠনের দিনও (১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার) দরপতন হয় পুঁজিবাজারে। প্রধান বাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ১৯ পয়েন্ট; অপর বাজার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমে ১৩ পয়েন্ট। ওই দিন মূল্যসূচকের পাশপাশি লেনদেনও কমে দুই বাজরে; কমে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর।

 

ওই সপ্তাহের শেষের দুই দিনও পতন হয় বাজারে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ৫৩ দশমিক ২০ পয়েন্ট। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমে ৮০ পয়েন্টের বেশি। শেষ দিন (বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইএক্স ৫১ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ হয়। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমে ৮৪ পয়েন্টের বেশি।

 

আর চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইতে নামমাত্র সূচক বাড়লেও সিএসইতে পতন হয়। ওইদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১ দশমিক ৯১ পয়েন্ট। তবে সিএসইএর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৪৮ দশমিক ৭২ পয়েন্ট কমেছিল।

 

সোমবারের বাজার পরিস্থিতি

 

সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ব্যাংক কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা, বস্ত্র, তথ্য প্রযুক্তসহ অন্যান্য খাতের ওপর। ফলে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

 

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৩৪৭ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে মাত্র ২১টির। আর ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় থাকা ২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই বেড়েছে।

 

এই ২৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- মাইডস ফাইন্যান্স, আরএসআরএম স্টিল, আলিফ মেনুফ্যাকচারিং, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, তুং হাই নিটিং, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাপোলো ইস্পাত, বে লিজিং, নুরানি ডাইং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, জেনারেশন নেক্সট, জিএসপি ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, জনতা ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, এলআর গ্লোবাল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রিমিয়ার লিজিং এবং ফ্যামিলি টেক্স।

 

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৮০ টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৩টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩টির এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২৫টি দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪টির দাম কমেছে এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৩৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

 

সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭১৮ কোটি ৫৬ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৬৮ কোটি ৮ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৫০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

 

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

 

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, রবি, বিডি থাই ফুড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং সায়হাম কটন।

 

অন্য বাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৪৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭ টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪১টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

আরও