২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়ার তথ্য সঠিক নয়: গভর্নর
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:৫৮:০০
২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়ার তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, “সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার যে খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয়। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
শনিবার বিকালে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় গভর্নর এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে। মার্চ মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটা হাইপাওয়ার মানি, ছাপানো টাকা। অর্থাৎ এটার প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
রাজধানীর বনানীতে পিআরআইয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে এই কথা বলেন আশিকুর রহমান।
এই খবর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
এর জবাবে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, “যে নিউজটা আসছে, নিউজটা কোনোভাবেই সত্য না। এই যে বলা হয়েছে যে, ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানো হয়েছে- এর কোনো আসলে অস্তিত্ব নেই।”
“এটা যেটা হয় যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সরকারের দুইটা অ্যাকাউন্ট আছে। ‘ওয়েজ অ্যানন্ড মিনস’ (সরকার বা কোনো সংস্থার ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বা সম্পদ সংগ্রহের উপায় ও পদ্ধতিকে বোঝায়) একটা অ্যাকাউন্ট আছে যেখান থেকে সরকার টাকা নেয়, টাকা দেয়, খরচ করে। এখানে আমাদের ১২ হাজার কোটি টাকার একটা লিমিট আছে, আর সব দেশে সব সরকারেরই থাকে।
“আরেকটা যখন এর থেকে (১২ হাজার কোটি) বেশি দরকার হয়, ওভার ড্রাফট। সরকার আজ একটা বিল পেমেন্ট করছে, কালকে রেভিনিউ কালেকশন করছে, এটা ওভার ড্রাফটের মধ্যের একটা ব্যাপার।”
সরকার বর্তমানে কোন অবস্থায় সে তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা যদি ১৭ ফেব্রুয়ারি যখন এই (বিএনপি) সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন ওয়েজ অ্যান্ড মিনস এর ব্যালেন্স ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা।
“এর মধ্যে আবার কমেছে, বেড়েছে, বাড়ছে, কমছে, বেড়েছে—এভাবে প্রতিদিনই কমে বাড়ে। কারণ আজকে হয়তো টাকা সরকার নিচ্ছে, কালকে দিয়ে দিচ্ছে। ২২ এপ্রিল অর্থাৎ দুই দিন/তিন দিন আগে এখন আমাদের ব্যালেন্স আছে হচ্ছে ১১ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ কমে গেছে কিন্তু সরকারের টাকা নেওয়ার পরিমাণ। এটা আবার বাড়তে পারে কালকে, আবার কমে যাবে।
“এটা একটা নরমাল ট্রানজেকশন। সেখানে এমন না যে আমি টাকা ছাপাচ্ছি আবার পরের দিন টাকা এনে টাকা পুড়িয়ে দিচ্ছি বা ডেমোনেটাইজ করছি, তা না।”
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “যাতে আমাদের প্রাইভেট সেক্টর ক্রাউড আউট না হয়, যাতে টাকা ছাপিয়ে হাই পাওয়ার মানি দিয়ে আমাদের ইনফ্লেশনারি সিচুয়েশন সৃষ্টি করতে না হয়— এই জায়গাটাতে আমরা থাকার চেষ্টা করতেছি।”
অর্থমন্ত্রীর বলেন, “ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া উচ্চ সুদের হার বাড়ায়, বেসরকারি খাতকে ‘ক্রাউড আউট’ করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। আমাদের সরকার এমন কোনো পথে যাবে না।
“অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ এড়ানো এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ না দেওয়া সরকারের নীতির মূল ভিত্তি।”
এমন ক্ষেত্রে ভুল কোনো তথ্য এলে তা নির্বাচিত সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যায় বলে তুলে ধরেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “পৃষ্ঠপোষকতামূলক রাজনীতির কারণে অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। বাংলাদেশ অর্থনীতি অলিগার্কদের হাতে চলে গিয়েছিল। এখন সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে।’
প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।