Beta
Logo

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

সোনার ভরি ৩২৬৬ টাকা কমল

সোনার ভরি ৩২৬৬ টাকা কমল
সকাল সন্ধ্যা প্রতিবেদন
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৪৯:০০

বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানো হয়েছে; সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে; নেমেছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়।

 

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে দাম কমানোর এই ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য মানের সোনার দরও প্রায় একই হারে কমানো হয়েছে।

 

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল সকালে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল; ওঠেছিল ২ লাখ ৫০ হজার ১৯৩ টাকায়। ৯ এপ্রিল ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হয়েছিল; ভরি নেমেছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮০ টাকায়।

 

তার একদিন আগে ৮ এপ্রিল এই মানের সোনার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল; ভরি উঠেছিল ২ লাখ ৫২ হজার ৪০৯ টাকায়। তার দুই দিন আগে ৬ এপ্রিল সকালে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছিল; নেমেছিল ২ লাখ ৪৫ হজার ৮১৯ টাকায়।

 

চলতি মাসের প্রথম দিন ১ এপ্রিল সকালে এই মানের সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল; উঠেছিল ২ লাখ ৪৭ হজার ৯৭৭ টাকায়। ৩১ মার্চ একই পরিমাণ বাড়ানো হয়; ভরি ওঠে ২ লাখ ৪৪ হজার ৭১১ টাকায়।

 

২৮ মার্চ একদিনে দুই দফা মূল্যবান এই ধাতুর দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ানো হয়। ওইদিন সকাল ১০টায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়; উঠেছিল ২ লাখ ৩৭ হজার ১২ টাকায়। ৬ ঘণ্টা না যেতেই বিকাল ৪টায় আরও ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়ানো হয়; ভরি ওঠে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়।

 

তার আগে টানা সাত দফা কমানো হয়; নেমেছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়।

 

২৭ মার্চ সকালে সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমানো হয়। ২৫ মার্চ কমানো হয়েছিল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।

 

রোজার ঈদের পর দশ দফা সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে পাঁচ বার কমেছে; বেড়েছেও পাঁচ বার।

 

আর চলতি এপ্রিল মাসে ২৩ দিনে ছয় বার সমন্বয় করা হয়েছে; তিন বার বেড়েছে, কমেছেও তিন বার।

 

ঈদের আগে ১৯ মার্চ একদিনে দুই দফায় (সকাল ও বিকাল) ১৫ হাজার ৩৩৮ কমানো হয়; ভরি নেমেছিল আড়াই লাখ টাকার নিচে, ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়।

 

বিশ্ববাজারের দাম কমায় দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

 

বাজুসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারি ছিল দেশের সোনার বাজারের জন্য অস্থির মাস। ওই মাসে সোনার দর যে গতিতে চড়েছিল, আবার ঠিক প্রায় একই গতিতে নেমেছিল। জানুয়ারিতে মোট ২০ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে ১৪ বার বেড়েছিল; কমেছিল ছয় বার।

 

বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হয় দফায় দফায় কমানোর মধ্য দিয়ে। এর পর ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলে লেনদেন। কিন্তু শেষের দিকে টানা বাড়ে; মাসের ২৮ দিনে ১৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে আট বার বাড়ে; কমানো হয় সাত বার।

 

গত মার্চ মাসে ১৫ দফা সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে আট বার বাড়ে; কমে সাত বার।

 

২০২৫ সালে মোট ৯১ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছে, আর কমেছে ২৭ বার। ২০২৪ সালে দাম সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার।

 

বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে হলমার্ক করা এক গ্রাম ২২ ক্যারেট মানের সোনা ২১ হাজার ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি হিসাবে প্রতিভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের এক ভরি কিনতে লাগছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা।

 

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

এই দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।

 

বুধবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায় বিক্রি হয়। ২১ ক্যারেটের বিক্রি হয় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায় বিক্রি হয়।

 

হিসাব বলছে, আট দিনের ব্যবধানে প্রতিভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের বেড়েছে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়েছে।

 

দাম কমানোর ব্যাখ্যায় বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বিশ্ববাজারেও কমেছে

 

রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিআউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল; ওইদিন প্রতিআউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫১১ ডলার ২৮ সেন্ট পর্যন্ত উঠেছিল।

 

এর পর ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলে লেনদেন। যুদ্ধের কারণে ফের চড়ছিল। এখন আবার ওঠানামা করছে।

 

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় বিশ্ববাজারের স্পটমার্কেটে প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৬৯১ ডলার ৩৫ সেন্ট।

 

গত ১৫ এপ্রিল বাজুস যেদিন দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ায় সেদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় বিশ্ববাজারের স্পটমার্কেটে প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৮১০ ডলার ৯১ সেন্ট।

 

গত ২৩ মার্চ স্পটমার্কেটে সোনার দাম একপর্যায়ে কমে ৪ হাজার ১০০ ডলারের ঘরে নেমে যায়, যা ছিল গত ১১ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন।

আরও