Beta
Logo

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

এবার জাপানে রপ্তানি বাড়বে কী?

এবার জাপানে রপ্তানি বাড়বে কী?
আবদুর রহিম হারমাছি
শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৩:০২:০০

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও আরেক বড় বাজার জাপানে মোটেই ভালো করতে পারছিল না। এক থেকে দেড় বিলিয়নের (১০০ থেকে ১৫০ কোটি) মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই দেশ থেকে রপ্তানি আয়।

 

বিভিন্ন সময়ে সরকার ও রপ্তানিকারকদের পক্ষ থেকে জাপানে রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যায়নি। অথচ এই বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তান পণ্য তৈরি পোশাকেরই চাহিদা ২৫ বিলিয়নের (২ হাজার ৫০০ কোটি) মতো। এই চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশের মতো রপ্তানি করেন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা।

 

বিশ্বের অন্যান্য বাজারের মতো জাপানেও পোশাক রপ্তানি বাড়লে বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ আরও মজবুত অবস্থান তৈরি করতে পারত। এবার সেই সুযোগ এসেছে। সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন দুয়ার খুলেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই করল।

 

এই চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অর্থাৎ কোনো শুল্ক ছাড়াই এ সব পণ্য জাপানে রপ্তানি করতে পারবেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা।

 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও এই চুক্তি সই করেন। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এক তথ্য বিবরণীতে বাংলাদেশের তথ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে ঢাকা ও টোকিওতে অনুষ্ঠিত সাত দফা দর-কষাকষির ফল হচ্ছে এই চুক্তি।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই সুবিধার ফলে জাপানের বাজারে কী বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে? সহজ উত্তর বাড়বে। পাল্টা প্রশ্ন উঠতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানিসহ ইউরোপের কোনো দেশের সঙ্গেই তো ইপিএ করেনি বাংলাদেশ। তারপরও তো ওই সব দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে; জাপানে বাড়েনি কেনো?

 

এর উত্তরে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “জাপানের মতো দেশে খুব মানসম্পন্ন পণ্যের চাহিদা বেশি। তাই জাপানে পণ্য রপ্তানি বাড়াতে হলে সেই মানের পণ্য উৎপাদন করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে যে মানের পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, তা দিয়ে জাপানে পণ্য রপ্তানি বেশি বাড়ানো যাবে না।”

 

“অনেক দিনের চেষ্টার ফলে জাপান আমাদের বিশেষ রপ্তানি সুবিধা দিয়েছে। এখন আমাদের সেইভাবে প্রস্তুত হতে হবে। তাদের ক্রেতাদের পছন্দমতো পোশাক তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ জাপানে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হলে দেশটির ক্রেতাদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানসম্পন্ন পণ্য রপ্তানি করতে হবে; বেশি দমের পোশাক রপ্তানি করতে হবে। তাহলেই আমরা এই সুবিধার সুফল পাবো।”

 

রুবেল বলেন, “ইপিএ প্রক্রিয়াটি মাত্র চার বছরের মধ্যেই ধারণা থেকে বাস্তবায়নে পৌঁছেছে। এই দ্রুত চুক্তি সম্পাদন প্রমাণ করে যে সুস্পষ্ট কৌশল, দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং লক্ষ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা সম্ভব। এটি ভবিষ্যৎ চুক্তি এবং আরও গভীর আঞ্চলিক সংহতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।”

 

একই কথা বলেছেন নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “জাপানের মানুষ খুবই ফ্যাশন সচেতন। তারা দামের বিষয়টি চিন্তা না করে দ্রুত ফ্যাশন পরিবর্তন করেন। তাদের এই প্রবণতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে আমাদেরও পোশাক তৈরি করে এই বাজারে রপ্তানি করতে হবে। তাহলেই কেবল আমরা জাপানে আাদের রপ্তানি বাড়াতে পারব।”

 

তিনি বলেন, “জাপানের ফ্যাশন অগ্রগামী এবং মান সচেতন বাজার যদি আমরা ধরতে পারি তাহলে জাপানের বাজার আমাদের সাফল্যের জন্য নতুন পথ খুলে দিতে পারে।”

 

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জাপান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২ হাজার ২৮৫ কোটি ৮৮ লাখ (২২.৮৬ বিলিয়ন) ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা রপ্তানি করেছিল মাত্র ১২৫ কোটি ৭২ লাখ (১.২৬ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক। এই অঙ্ক জাপানের মোট পোশাক আমদানির মাত্র ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

 

“এই তথ্যই বলছে, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর যথেস্ট সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন কেবল যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনা,” বলেন হাতেম।

 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে ১৪১ কোটি ১৬ লাখ (১.৪১ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) চেয়ে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।

 

এর মধ্যে ১১৮ কোটি ৫৪ লাখ (১.১৮ বিলিয়ন) এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। হিসাব বলছে, মোট রপ্তানির ৮৪ শতাংশই এসেছে পোশাক থেকে।

 

তৈরি পোশাকের বাইরে গত অর্থবছরে জাপানে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ও ২ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের হোম টেক্সটইল রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ।

 

২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাপানে ১৩১ কোটি ৩৩ লাখ (১.৩১ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০২২-২৩) চেয়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। যার মধ্যে ১০৮ কোটি ৬২ লাখ (১.০৮ বিলিয়ন) এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে।

 

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে জাপানে পণ্য রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা আসে ২০২২-২৩ অর্থবছরে। ওই আর্থিক বছরে জাপানে ১৪৫ কোটি (১.৪৫ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। যা ছিল ২০২১-২২ অর্থ বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। যার মধ্যে ১২৫ কোটি (১.০৮ বিলিয়ন) ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে।

 

২০২১-২২ অর্থ বছরে জাপানে মোট রপ্তানির অঙ্ক ছিল ১৩৫ কোটি ৩৮ লাখ (১.৩৫ বিলিয়ন) ডলার। যার মধ্যে ১১০ কোটি (১.১০ বিলিয়ন) ডলারই এসেছিল পোশাক থেকে।

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে ইপিবি। এই সাত মাসে জাপানে ৮৩ কোটি ৬১ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এই বাজারে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৮৬ কোটি ডলার।

 

১৩ কোটি মানুষের দেশ জাপানে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “জাপানে রপ্তানি বাড়ানোর একটা সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ আমাদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। আর এজন্য সরকার ও রপ্তানিকারকরা মিলে সম্মিলিতভাবে উগ্যোগ নিতে হবে।”

 

“জাপান বাংলাদেশের শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। আগামী ৫ বছরের মধ্যে জাপানে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। আর সে জন্য যা যা করা দরকার তা সরকার ও বেসরকারি খাতকে মিলে করতে হবে।”

 

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে ওঠা জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ।

 

কি বলছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা

 

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তার বক্তব্যে ইপিএ চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “ইপিএ চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়; এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ।”

 

তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে।

 

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা উভয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ প্রায় ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের জন্য তার বাজার সম্প্রসারিত করছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারে ১ হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।

 

ইপিএ চুক্তি অনুযায়ী, পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক খুব সহজে জাপানে রপ্তানি করা যাবে।

পাশাপাশি জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং এবং নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগে ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মানুষের জন্য জাপানে অধিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।

 

বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি, এটি উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি এবং লজিস্টিকস প্রভৃতি খাতে জাপানি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানি উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ হলে আমাদের দেশীয় পণ্যের মান বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

 

এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশ এবং একটি দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এই চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে—এমনটা বলা হয় তথ্য বিবরণীতে।

 

ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) ছাড়া আর কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় কোনো অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যচুক্তি নেই। জাপানের সঙ্গে ইপিএ সইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়া শুরু করল।

 

যেভাবে এই সাফল্য

 

বাংলাদেশ-জাপান ইপিএর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে। ২০২২ সালে দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে দর-কষাকষির ভিত্তি তৈরিতে গঠন করা হয় যৌথ গবেষণা দল। ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর দলটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৭টি খাত তুলে ধরে সমন্বিতভাবে দর-কষাকষির পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী আলোচনা এগোয়।

 

২০২৪ সালের ১২ মার্চ উভয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইপিএ নিয়ে দর-কষাকষির ঘোষণা দেয় এবং মে মাসে ঢাকায় প্রথম রাউন্ডের আলোচনা শুরু করে। একই বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আলোচনা থমকে যায়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসে এবং এক বছরের মধ্যে চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।

 

এরপর ঢাকা-টোকিও-ঢাকা—এভাবে মোট সাত দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বর ঢাকায় দ্বিতীয়, ডিসেম্বরে টোকিওতে তৃতীয় রাউন্ড আলোচনা হয়। ২০২৫ সালে ঢাকায় চতুর্থ, টোকিওতে পঞ্চম, ঢাকায় ষষ্ঠ এবং সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে টোকিওতে সপ্তম ও চূড়ান্ত রাউন্ডের আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২২ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানের সঙ্গে ইপিএ সইয়ের কথা জানায়।

আরও