Beta
Logo

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমল

সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমল
সকাল সন্ধ্যা প্রতিবেদন
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৭:০০

সোনার দাম কমেছে। মঙ্গলবার সকালে সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে; নেমেছে ২ লাখ ৫৮ হজার ৮২৪ টাকায়।

 

দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার দাম কমানোর এই ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য মানের সোনার দামও প্রায় একই হারে কমানো হয়েছে।

 

জাতীয় নির্বাচনের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ভরি উঠেছিল ২ লাখ ৬১ হজার ৪০ টাকায়।

 

তার আগে ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এই মানের সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়ানো হয়। ভরি উঠেছিল ২ লাখ ৬২ হজার ৯০ টাকায়। ১২ ঘণ্টা না যেতেই রাতে কমানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। ভরি নামে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়।

 

৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়েছিল; ভরি নেমেছিল ২ লাখ ৫৪ হজার ৪৫০ টাকায়।

 

তার আগে ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়ানো হয়; ভরি উঠেছিল ২ লাখ ৫১ হজার ১৮৪ টাকায়। ৬ ঘণ্টা যেতে না যেতেই বিকেলে আরও ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানো হয়; ভরি ওঠে ২ লাখ ৬২ হজার ৯০ টাকায়।

 

হিসাব করে দেখা যায়, ওই দিন সকাল-বিকাল দুই দফায় ২২ ক্যারেট মানের সোনার দাম ভরিতে ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা বেড়েছিল। এর আগের দিন ২ ফেব্রুয়ারি তিন দফায় প্রায় ১৪ হাজার টাকা কমানো হয়; ভরি নেমেছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকায়।

 

চলতি মাসের প্রথম দিন ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভরিতে ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। তাতে ভরি ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকায় নেমে আসে। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই দরে বিক্রি হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু লেনদেন শুরু হতে না হতেই আরেক দফা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। ভরিতে কমানো হয় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা; নামে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকায়। সকাল ১০টা ৪৫মিনিট থেকে সারা দেশে এই দরে বিক্রি হবে বলে জানানো হয়।

 

কয়েক ঘণ্টা না যেতেই বিকেল পৌনে ৪টায় আরেক দফা কমানো হয়। এ দফায় কমানো হয় ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। ভরি আড়াই লাখ টাকার নিচে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকায় নেমে আসে।

 

এর আগে ৩১ জানুয়ারি সকালে ভরিতে ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমেছিল; তাতে ভরি এক ধাক্কায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৬ টাকায় নেমে আসে। ১২ ঘণ্টা না যেতেই রাতে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়ানো হয়; ভরি ওঠে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকায়।

 

বিশ্ববাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছিল; গড়ছিল রেকর্ডের পর রেকর্ড। চড়তে চড়তে ভরি ৩ লাখ টাকার দিকে ছুটছিল। ৩০ জানুয়ারি সেই দৌড় থামে; বড় পতন হয়। ২২ ক্যারেট মানের সোনার দাম ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমানো হয়। ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা থেকে এক ধাক্কায় ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকায় নেমে আসে।

 

২৯ জানুয়ারি সকালে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে এক লাফে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। আগে কখনই একবারে সোনার দাম এতোটা বাড়ানো হয়নি। আর তাতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল।

 

২৮ জানুয়ারি সকালে ভরিতে ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা বাড়ানো হয়; ভরি ওঠেছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকায়। তার দুই দিন আগে ২৬ জানুয়ারি রাতে ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়ানো হয়। আগের সব রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায় উঠেছিল। ২৫ জানুয়ারি বাড়ানো হয় ১ হাজার ৫৭৫ টাকা; ভরি উঠেছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকায়।

 

২৩ জানুয়ারি সকালে কমে দুপুরেই বেড়েছিল সোনার দাম। টানা তিন দিন ভরিতে ১৮ হাজার টাকা বেড়ে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমেছিল। আর তাতে ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকায় নেমেছিল। ওইদিন সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে ওই দরে বিক্রি হয় মূল্যবান এই ধাতু। এর পর দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। তাতে বলা হয়, দুপুর সোয়া ১২টা থেকে ২২ ক্যারেট মানের প্রতিভরি সোনা ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৬ টাকায় বিক্রি হবে; বেড়েছিল ভরিতে ৬ হাজার ২৯৮ টাকা।

 

বিশ্ববাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ২১ জানুয়ারি আগের রেকর্ড ভেঙে এই মানের সোনার ভরি আড়াই লাখ টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায় উঠেছিল।

 

তার আগে ২০ জানুয়ারি ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়ানো হয়। ভরি ওঠে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ টাকায়। ১৯ জানুয়ারি বাড়ানো হয় ৪ হাজার ১৯৯ টাকা; ভরি উঠেছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকায়।

 

তার পাঁচ দিন আগে ১৪ জানুয়ারি এই মানের সোনর দাম ভরিতে ২ হাজার ৬২৪ টকা বাড়ানো হয়। ভরি উঠেছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায়। ১২ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়ে; ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকায় ওঠে।

 

১০ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট মানের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়; ভরি উঠেছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। তার দুই দিন আগে ৮ জানুয়ারি অবশ্য ১ হাজার ৫০ টাকা কমানো হয়েছিল; ভরি নেমেছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকায়।

 

এর আগে দুই দফায় এই মানের সোনার দাম ভরিতে ৫ হাজার ১৩২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ৫ জানুয়ারি বাড়ানো হয় ২ হাজার ৯১৬ টাকা; ভরি উঠেছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। ৪ জানুয়ারি বাড়ানো হয়েছিল ২ হাজার ২১৬ টাকা; ভরি ওঠে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায়।

 

তার আগে চার দিনে তিন দফায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা কমানো হয়েছিল।

 

২০২৬ সালের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি এই মানের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমানো হয়। ভরি নেমেছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়।

 

বাজুসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জানুয়ারি মাস ছিল দেশের সোনার বাজারের জন্য অস্থির মাস। ওই মাসে সোনার দর যে গতিতে চড়েছিল, আবার ঠিক প্রায় একই গতিতে নেমেছিল।

 

জানুয়ারিতে মোট ২০ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ১৪ বার বেড়েছে; কমেছে ছয় বার।

 

বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হয় দফায় দফায় কমানোর মধ্য দিয়ে। এর পর ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলছে লেনদেন। এই মাসের ১৭ দিনে ১০ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ছয় বার কমেছে; বেড়েছে চার বার।

 

২০২৫ সালে মোট ৯১ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছে, আর কমেছে ২৭ বার। ২০২৪ সালে দাম সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার।

 

বাজুস সাধারণত রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে সোনার দাম বাড়ানো-কমানোর ঘোষণা দিয়ে থাকে। পরের দিন থেকে সারা দেশে সেই দরে বিক্রি হয়। তবে কিছুদিন ধরে সকাল-বিকাল-রাতেও বাড়ানো-কমানোর ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

 

সবশেষ মঙ্গলবার সকালে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস। এর ব্যাখ্যায় সংগঠনটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে হলমার্ক করা এক গ্রাম ২২ ক্যারেট মানের সোনা ২২ হাজার ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি হিসাবে প্রতিভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়। ২১ ক্যারেটের এক ভরি কিনতে লাগছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৩ টাকা।

 

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট মানের প্রতিভরি সোনা ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। ২১ ক্যারেটের বিক্রি হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকায়।

 

১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হয়।

 

হিসাব বলছে, আট দিনের ব্যবধানে প্রতিভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের কমেছে ২ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা।

 

বিশ্ববাজারেও কমেছে

 

রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিআউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল; ওইদিন বাংলাদেশে সময় দুপুর ৪টায় প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ৫ হাজার ৫১১ ডলার ২৮ সেন্ট।

 

৩০ জানুয়ারি সোনার বাজারে বড় দরপতন হয়; ওদিন বেলা ১টায় প্রতিআউন্স সোনার দাম ২০০ ডলার ৬১ সেন্ট কমে ৫ হাজার ১২৭ ডলার ৪ সেন্টে নেমে আসে। ৩১ জানুয়ারি সেই সোনার আউন্স ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে; বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৮৯৩ ডলার ২০ সেন্ট।

 

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলছে লেনদেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৯২০ ডলার ৭৭ সেন্ট। কমেছে ৭৩ ডলার ৬৭ সেন্ট। শতাংশ হিসাবে কমেছে ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

 

৯ ফেব্রুয়ারি সকালে বাজুস যখন দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দেয় তখন প্রতিআউন্সের দাম ছিল ৫ হাজার ৪ ডলার ৪৪ সেন্ট।

আরও