সোনার ভরি আবার আড়াই লাখ টাকা ছাড়াল
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৩৯:০০
বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম বেড়েছে; সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়েছে; আবার আড়াই লাখ টাকা ছাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হজার ১৯৩ টাকায় উঠেছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে দাম বাড়ানোর এই ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য মানের সোনার দরও প্রায় একই হারে বাড়ানো হয়েছে।
এর আগেও কয়েকবার ২২ ক্যারেট সোনার ভরি আড়াই লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে গত ২১ জানুয়ারি প্রথম আড়াই লাখ টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায় উঠেছিল।
এর পর পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে ২৯ জানুয়ারি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল ভরি। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
এর পর বিশ্ববাজার নিম্মমূখী হয়; দেশের বাজারেও কমানো হয় সোনার দর। টানা সাত দফা কমে মার্চের শেষের দিকে ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায় নেমেছিল।
এর পর ওঠানামা চলছে দেশের সোনার বাজারে।
গত ৯ এপ্রিল ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাা কমানো হয়েছিল; নেমেছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮০ টাকায়। তার একদিন আগে ৮ এপ্রিল এই মানের সোনার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল; ভরি উঠেছিল ২ লাখ ৫২ হজার ৪০৯ টাকায়।
তার দুই দিন আগে ৬ এপ্রিল সকালে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছিল; নেমেছিল ২ লাখ ৪৫ হজার ৮১৯ টাকায়।
১ এপ্রিল সকালে এই মানের সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল; উঠেছিল ২ লাখ ৪৭ হজার ৯৭৭ টাকায়। ৩১ মার্চ একই পরিমাণ বাড়ানো হয়; ভরি ওঠে ২ লাখ ৪৪ হজার ৭১১ টাকায়।
২৮ মার্চ একদিনে দুই দফা মূল্যবান এই ধাতুর দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ানো হয়। ওইদিন সকাল ১০টায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়; উঠেছিল ২ লাখ ৩৭ হজার ১২ টাকায়। ৬ ঘণ্টা না যেতেই বিকাল ৪টায় আরও ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়ানো হয়; ভরি ওঠে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়।
তার আগে টানা সাত দফা কমানো হয়; নেমেছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়।
২৭ মার্চ সকালে সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমানো হয়। ২৫ মার্চ কমানো হয়েছিল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
রোজার ঈদের পর নয় দফা সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে চার বার কমেছে; বেড়েছে পাঁচ দফা।
আর চলতি এপ্রিল মাসে ১৫ দিনে পাঁচ বার সমন্বয় করা হয়েছে; তিন বার বেড়েছে, কমেছেও দুই বার।
ঈদের আগে ১৯ মার্চ একদিনে দুই দফায় (সকাল ও বিকাল) ১৫ হাজার ৩৩৮ কমানো হয়; ভরি নেমেছিল আড়াই লাখ টাকার নিচে, ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়।
বিশ্ববাজারের দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।
এর আগে ১৪ মার্চ সকালে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমানো হয়; নেমেছিল ২ লাখ ৬২ হজার ২৬৫ টাকায়। আগের দিন ১৩ মার্চ কমানো হয়েছিল ২ হাজার ১৫৮ টাকা; ভরি ছিল ২ লাখ ৬৪ হজার ৯৪৮ টাকা।
১১ মার্চ সকালে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়; উঠেছিল ২ লাখ ৭০ হজার ৪৩০ টাকায়। ১০ মার্চ বাড়ানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা; ভরি ওঠে ২ লাখ ৬৮ হজার ২১৪ টাকায়। ওই দুই দিনে ভরিতে বেড়েছিল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
তার আগে দুই দফায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে সাড়ে ১২ হাজার টাকা কমানো হয়। ৯ মার্চ সকালে কমানো হয়েছিল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা; ভরি নেমেছিল ২ লাখ ৬৪ হজার ৯৪৮ টাকায়। ৪ মার্চ ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমানো হয়; নেমেছিল ২ লাখ ৬৮ হজার ২১৪ টাকায়।
বাজুসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারি ছিল দেশের সোনার বাজারের জন্য অস্থির মাস। ওই মাসে সোনার দর যে গতিতে চড়েছিল, আবার ঠিক প্রায় একই গতিতে নেমেছিল। জানুয়ারিতে মোট ২০ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে ১৪ বার বেড়েছিল; কমেছিল ছয় বার।
বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হয় দফায় দফায় কমানোর মধ্য দিয়ে। এর পর ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলে লেনদেন। কিন্তু শেষের দিকে টানা বাড়ে; মাসের ২৮ দিনে ১৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে আট বার বাড়ে; কমানো হয় সাত বার।
গত মার্চ মাসে ১৫ দফা সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে আট বার বেড়েছে; কমেছে সাত বার।
২০২৫ সালে মোট ৯১ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছে, আর কমেছে ২৭ বার। ২০২৪ সালে দাম সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার।
বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার ১০টা থেকে দেশের বাজারে হলমার্ক করা এক গ্রাম ২২ ক্যারেট মানের সোনা ২১ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি হিসাবে প্রতিভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায়। ২১ ক্যারেটের এক ভরি কিনতে লাগছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০টাকা।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এই দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮০ টাকায় বিক্রি হয়। ২১ ক্যারেটের বিক্রি হয় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বিক্রি হয়।
হিসাব বলছে, ছয় দিনের ব্যবধানে প্রতিভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের বেড়েছে ২ হাজার ৯৯ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বেড়েছে।
দাম কমানোর ব্যাখ্যায় বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারেও বেড়েছে
রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিআউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল; ওইদিন প্রতিআউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫১১ ডলার ২৮ সেন্ট পর্যন্ত উঠেছিল।
এর পর ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলে লেনদেন। যুদ্ধের কারণে ফের চড়ছিল। এখন আবার ওঠানামা করছে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় বিশ্ববাজারের স্পটমার্কেটে প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৮১০ ডলার ৯১ সেন্ট।
গত ৯ এপ্রিল বাজুস যেদিন দেশের বাজারে সোনার দাম কমায় সেদিন বিকাল ৩টায় বিশ্ববাজারের স্পটমার্কেটে প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৭৪৫ ডলার ৯ সেন্ট।
গত ২৩ মার্চ স্পটমার্কেটে সোনার দাম একপর্যায়ে কমে ৪ হাজার ১০০ ডলারের ঘরে নেমে যায়, যা ছিল গত ১১ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন।